x

এইমাত্র

  •  জুনে ধর্ষণের শিকার শতাধিক নারী-শিশু: মহিলা পরিষদ
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ৩১১৪ জন, মৃত ৪২ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৬ জন
  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৭৮ জন

রিজার্ভ চুরি: ফিলিপিন্স ব্যাংক কর্মকর্তার কারাদণ্ড

প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৪

জাগরণীয়া ডেস্ক
আরসিবিসি ব্যাংক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির দায়ে ফিলিপিন্সের রিজল কমার্সিয়াল ব্যাংক করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক ব্যাংক ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগিতোকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। খবর রয়টার্স এর। 

১০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সাবেক ওই ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের ৮টি অভিযোগের সবক'টিতে দোষী সাব্যস্ত করে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই সাথে তাকে ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানাও করা হয়।

প্রায় তিনি বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। পরে ওই অর্থ ম্যানিলার আরসিবিসি শাখার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। ওই শাখার প্রধান হিসেবেই দায়িত্ব পালন করছিলেন আসামি দেগিতো। পরে সেই অর্থ ফিলিপিন্সের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের মাধ্যমে ফিলিপিন্সের তিনটি কাসিনোতে যায়। তারপর থেকে সেই অর্থের কোন হদিশ পাওয়া যায়নি।

দুনিয়া কাঁপানো সাইবার জালিয়াতির এই ঘটনায় এই প্রথম কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হল। দেগিতো ছিলেন এই মামলার একমাত্র আসামি। মানি লন্ডারিংয়ের প্রতিটি অভিযোগে তাকে চার থেকে সাত বছর করে জেল দেয়া হয়েছে।

তবে আদালতের সামনে মিস দেগিতো জানিয়েছেন, এই অর্থ লেনদেনের পেছনে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

দেগিতোকে এখনই কারাগারে যেতে হচ্ছে না। এ মামলায় অগ্রিম জামিনে রয়েছেন তিনি এবং সেটা তার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে-জানিয়েছেন দেগিতোর একজন আইনজীবী জোয়াকুইন হিজোন।

তার অপর আইনজীবী দেমেত্রিও কাস্টোডিও বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন।

উল্লেখ্য, সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ চুরির এ ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি মেসেজে বানান ভুলের কারণে শ্রীলঙ্কার একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন ডলার সরিয়ে দেয়ার সময় তা আটকে যায়। ঘটনার এক মাস পর, ফিলিপিন্সের একটি পত্রিকার খবরের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ খবর জানতে পারে এবং আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করায় সমালোচনার মুখে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ে আনা হয় বড় ধরনের রদবদল। 

রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া টাকা মুদ্রা লেনদেনকারী কোম্পানি ফিলরেমের মাধ্যমে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোর কাছে। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হয়ে ওই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তার হদিস আর মেলেনি। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে এনেছে বাংলাদেশ। বাকি অর্থ উদ্ধারে তেম কোন অগ্রগতি নেই।

ফিলিপিন্স ব্যাংক আরসিবিসি ওই ঘটনায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের ম্যানলা শাখা ম্যানেজার দেগিতোকে বরখাস্ত করে। আর ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় আরসিবিসিকে ১ কোটি ৯১ লাখ ডলার জরিমানা করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত