x

এইমাত্র

  •  সাংসারিক বিরোধে স্বামীর গলা কেটে হত্যা করলো স্ত্রী
  •  ৩ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৭৪৩ জন, মৃত ৪২ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৫ জন
  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৩০৮ জন

আদা হেগেরবার্গ: প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ী নারী

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৮

প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ী স্ট্রাইকার আদা হেগেরবার্গ

এবারই প্রথম ফুটবলে নারীদের জন্য ঘোষিত হলো সম্মানজনক ব্যালন ডি’অর পুরস্কার। প্রথম এই পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন অলিম্পিক লিঁওর ক্লাবের স্ট্রাইকার আদা হেগেরবার্গ। 

স্থানীয় সময় ৩ ডিসেম্বর (সোমবার) রাতে প্যারিসে এক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ২০১৮ সালের ব্যালন ডি’অর পুরস্কার ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় নারী ক্যাটাগরীতে পুরস্কৃত হন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। 

মঞ্চে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হেগেরবার্গ বলেন, এটি সত্যিই অবস্মরণীয়। সামনে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। লিঁওর জন্য আরো খেলতে চাই এবং জিততে চাই। এই পুরস্কার সত্যিই এক দারুণ মোটিভেশন। বেশি কিছু বলবো না, শুধু নতুনদের বলতে চাই, নিজের উপর বিশ্বাস রাখো।

ক্যারিয়ারে নিজের সেরা মৌসুম পার করেছেন হেগেরবার্গ। নিজের দলকে ফ্রেঞ্চ টাইটেল দলকে জেতাতে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী দলটির হয়ে ফাইনালে গোলও করেন তিনি।

এক নজরে আদা হেগেরবার্গ

পরিচয়: পুরো নাম আদা মারটিন সলসমো হেগেরবার্গ। ১৯৯৫ সালের ১০ জুলাই নরওয়ের মোলডেতে জন্মগ্রহন করেন। 

ক্লাব ক্যারিয়ার ২০১০ সালে কোলবোন ক্লাব দিয়ে যাত্রা শুরু করেন এই স্ট্রাইকার। ২০১১ সালের ৬ আগস্ট ৭ মিনিটে ৩ টি গোল করে স্থানীয় ক্লাব রোয়াকে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সবার নজর কাড়েন। টপসেরিনে ১৬ বছর বয়সে হ্যাটট্রিক করে কণিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। ২০১১ সালে টপসেরিনে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং ঐ বছরই লিগের উদীয়মান তারকার খেতাব জেতেন। ২০১২ সালে তিনি ও তার বড় বোন একসাথে স্টাবিক ক্লাবে যোগদান করেন। সে বছর মে মাসে ফার্ট ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে একাই ৫ গোল করে স্টাবিককে ৮-২ ব্যবধানে জিতিয়ে দেন। সে মাসেই ট্যালেন্ট অব দ্য মান্থ জেতেন হেগেরবার্গ। ২০১২ সালে টপসেরিনে আবারও সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি। সেসময় তার ঝুলিতে ছিল ১৮ ম্যাচে ২৫টি গোল।

২০১৩ সালে তিনি ও তার বোন একত্রে জার্মান ক্লাব টার্বাইন পোস্টডামে যোগদান করেন। 

২০১৪ সালে তিনি অলিম্পিক লিঁওর সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। হাগেরবার্গের প্রথম মৌসুমটি ছিল দারুণ উপভোগ্য। লীগের ২২ টি ম্যাচে তিনি ২৬ গোল করে তিনি এই ক্লাবকে তার নবম টাইটেল জেতাতে সহায়তা করেন। কোপা ফ্রান্স ফাইনালে ৪৭ মিনিটে তার জয়সূচক গোল ক্লাবকে বিজয় এনে দেয়। 

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার: মাত্র ১৫ বছর বয়সে অনুর্ধ্ব-১৯ ফুটবল টিমে খেলেন তিনি, যেখানে তার টিম ফাইনাল খেলে। ২০১২ সালে অনুর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে খেলেন  হেগেরবার্গ ও তার বোন এড্রিন। সেখানে তাদের দল কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে। গ্রুপ পর্বে কানাডার বিপক্ষে দুইবোনই স্কোর করে ২-১ ব্যবধানে দলকে জেতান। ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে খেলেন, সেখানে তার দল ৩-১ ব্যবধানে আয়ারল্যাণ্ডকে হারায়।

পুরস্কার

২০১৬ সালে উফফা সেরা নারী খেলোয়াড় হিসেবে ভূষিত হন।
২০১৬ সালে তিনি বর্ষসেরা বেস্ট নরুওয়েজিয়ান প্লেয়ার হিসেবে নির্বাচিত হন।
২০১৭ সালে তিনি বিবিসি সেরা নারী ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন।
সর্বশেষে ২০১৮ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জয়ী নারী তিনি। 

এখন পর্যন্ত তিনি ২১৯ টি গোলের মালিক। যার মধ্যে ক্লাব পর্যায়ে দিয়েছেন ১৫৭টি, কাপ পর্যায়ে ২৬টি গোল। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত