x

এইমাত্র

  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৭২ লাখ ২৪ হাজার ৮৮৫ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯১ জন
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৯৪৯ জন, মৃত ৩৭ জন
  •  করোনা-বন্যায় পুষ্টিহীনতার আশঙ্কায় চরাঞ্চলের গর্ভবতী ও নবজাতক
  •  সাহারা খাতুন আর নেই

মৃত বাচ্চা প্রসব করেছে সেই নীলগাইটি

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২১

জাগরণীয়া ডেস্ক

বিলুপ্ত প্রজাতির সেই গর্ভবতী নীলগাইটি মৃত বাচ্চা প্রসব করেছে, ফলে এই প্রজাতির বংশরক্ষার বিষয়টি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দিনাজপুর সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তা ও রামসাগর জাতীয় উদ্যানের তত্ত্বাবধায়ক আবদুস সালাম তুহিন বলেন, অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা বিলুপ্ত প্রজাতির নীলগাইটি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছে। অসুস্থ অবস্থায় সে একটি ছেলে বাচ্চা মৃত অবস্থায় প্রসব করেছে। যেহেতু সে গ্রামবাসীদের হাতে আটকের পর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল, তাকে সুস্থ করতেই অনেক বেগ পেতে হয়েছে। মৃত বাচ্চা প্রসব করায় এই প্রজাতির বংশবৃদ্ধি আর সম্ভব হলো না বাংলাদেশে। তবে বংশবৃদ্ধির জন্য পুরুষ নীলগাইয়ের খোঁজ করছে বনবিভাগ। কোনোভাবে পুরুষ নীলগাই পেলে বংশবিস্তার ঘটানো সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ ইউনিয়নের যদুয়ার গ্রামে বিরল প্রজাতির এই নীলগাইটি ধরা পড়ে। স্থানীয়দের ধারণা, ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এটি। সম্ভাব্য বহুপথ পাড়ি দিয়ে এসে ধরা পড়ার সময় ক্লান্ত ছিল প্রাণীটি। ধরা পড়ার পর ধস্তাধস্তিতে মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ায় খেতে না পারা, সর্বোপরি পেটে বাচ্চা থাকায় প্রাণীটির জীবনাশঙ্কা দেখা দেয়। দিনাজপুর পশুসম্পদ বিভাগ আপ্রাণ চেষ্টা করছে তাকে বাঁচায়।  ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারিভাবে প্রাণী সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় দিনাজপুরের রামসাগরের জাতীয় উদ্যানে হরিণের খাঁচায় রাখা হয়েছে নীলগাইটি। 

নীলগাই বাংলাদেশে বিলুপ্ত প্রজাতির বন্যপ্রাণী। এটি এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে বড় হরিণ। নীলগাইয়ের বৈজ্ঞানিক নাম 'বোসেলাফাস ট্র্যাগোকামেলাস'। একশ' বছর আগে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলত নীলগাইয়ের।  দুর্লভ এই প্রাণীটির পুরো দেহ দেখতে গরুর মতো হলেও ঘাড় থেকে মাথা ও মুখ পর্যন্ত হরিণ সদৃশ। এর মুখ হরিণের মতো সূচালো, তবে মাথায় শিং নেই। স্ত্রী প্রজাতির নীল গাইয়ের গায়ের রঙ লালচে বাদামি। তবে প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নীল গাইয়ের গায়ের রঙ হয় নীলচে ধূসর। মূলত পুরুষ প্রাণীটির গায়ের রঙ থেকেই প্রাণীটির নামকরণ করা হয়েছে। ছোট পাহাড় ও জঙ্গলে চরতে পছন্দ করে এরা। মহুয়া গাছের রসালো ফুল এদের দারুণ পছন্দ। পানি ছাড়াই দীর্ঘসময় কাটিয়ে দিতে পারে এরা। 

এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও রেঞ্জের কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান ,  ৪০/৫০ বছর আগেও ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর এলাকার বন ও মাঠ-প্রান্তরে নীলগাইয়ের দেখা মিলতো। জ্যোৎস্না রাতে দলবেঁধে প্রাণীটি তৃণ খেতে মাঠে চরে বেড়াতো। তবে এখন প্রাণীটি দুর্লভ। বাংলাদেশের কোনও বনে এখন নীলগাই আছে এমনটা শোনা যায় না। তবে ঠাকুরগাঁও থেকে দিনাজপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর সংলগ্ন বনাঞ্চলে এখনও নীলগাইয়ের দেখা মেলে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত