x

এইমাত্র

  •  করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে নতুন সংক্রমিত দু'জন, মোট রোগী ৫১
  •  বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩৮ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ
  •  নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি ভাড়া মওকুফের অনুরোধ মেয়র আতিকের
  •  রোগীর সেবাকারীরাই পিপিই পাচ্ছেন না, অন্যরা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেনঃ প্রধানমন্ত্রী

বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে দেয়া ইতি দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আর্চার

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৩

জাগরণীয়া ডেস্ক

বাংলাদেশের সোনার মেয়ে ইতি খাতুন এখন দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আর্চার। নিজের বাল্যবিবাহ নিজে ঠেকিয়ে এসএ গেমসে প্রথম নারী হিসেবে ৩টি স্বর্ণ পদক জিতে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা আর্চার হয়ে রেকর্ড গড়লেন ইতি। আর এই রেকর্ডেই বাংলাদেশের এসএ গেমসের ৩৫ বছরের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন এই সেরা আর্চারি।

গতকাল রবিবার মেয়েদের রিকার্ভে মেয়েদের দলগত ও মিশ্র দলগত ইভেন্টে সোনা জেতার পর আজ একটা রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে খেলতে নেমে বাংলার বুকে ইতিহাস গড়লেন ইতি খাতুন।

আজ ০৯ ডিসেম্বর (সোমবার) পোখারার অন্নপূর্ণায় রিকার্ভ মেয়েদের এককের ফাইনালে ভুটানের কিনলে শেরিংকে ৭-৩ সেট পয়েন্টে হারিয়ে ইতিহাস গড়েন ইতি। এ বছর জাতীয় জুনিয়রে রিকার্ভেও ব্যক্তিগত ইভেন্টে জেতেন রুপা, জুনিয়র ক্যাডেট বিভাগে জেতেন সোনা।

বাংলাদেশের আর্চারির ইতিহাসে এই বিস্ময়বালিকার আজ হয়তো এখানে আসাই হতো না। আর্চারিতে না এলে কোনো এক গ্রামে ঘরকন্নায় ব্যস্ত থাকতেন এত দিন।

তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুন। পাড়ার সাথিদের সঙ্গে পুতুল খেলেই সময়টা কেটে যেত বেশ। তবে তির-ধনুকের খেলায় ভিষণ টান ছিল তার। এতে এতটাই মজে গিয়েছিলেন যে মা–বাবার বকুনিকেও পরোয়া করতেন না। অনুশীলন শেষে একদিন বাড়িতে এসে দেখেন, বাবা তাঁকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। পাত্রপক্ষ বসা বাড়ির বারান্দায়। বিয়ের সব আয়োজন শেষ।

শাড়ি পরে ঘোমটা মাথায় পাত্রপক্ষের সামনে গিয়ে দাঁড়ান ইতি। পাত্রপক্ষের পছন্দও হয়ে যায় ‘বালিকা বধূকে’ দেখে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বেঁকে বসেন ইতি। বিয়েটা আর হয়নি। বিয়ের আসর থেকে উঠে আসা মেয়েটাই এবারের দক্ষিণ এশিয়ান গেমস মাতাচ্ছেন।

বাবা ইবাদত আলী হোটেলের কর্মচারী। তিন মেয়ে ইভা খাতুন, ইতি খাতুন ও স্মৃতি খাতুনকে নিয়ে সংসার চালাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। মেয়েদের স্কুলের খরচ জোগাতে পারেন না বেশির ভাগ সময়। তাই তো মেয়েকে বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্তটা যে কত বড় ভুল ছিল, সেটা পরে স্বীকার করেন।

সেই বিয়ের আসর থেকে উঠে আসার পর ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে চুয়াডাঙ্গা স্টেডিয়ামে আর্চারির প্রাথমিক বাছাইয়ে হয়েছিলেন প্রথম। পরে ২০১৮ সালে তির নবম জাতীয় আর্চারিতে প্রথম পদক জেতেন ইতি। তিরন্দাজ সংসদের হয়ে মেয়েদের রিকার্ভ ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জেতেন চুয়াডাঙ্গার এই কিশোরী।

এর আগে ১৯৮৫ সালে ঢাকায় এসএ গেমসে সুইমিংপুলে সর্বোচ্চ সোনার পদক জিতে রীতিমতো ঝড় তোলেন সাঁতারু মোশাররফ হোসেন খান। সেবার বাংলাদেশ জেতে ৯টা সোনা। এর মধ্যে ৬টা সোনা এসেছিল সাঁতার থেকে। আর গেমসে একাই ৫টি সোনা জেতেন সাঁতারু মোশাররফ। তিনি তিনটি ব্যক্তিগত ও রিলেতে দুটি সোনা জিতেছিলেন।

মোশাররফ হোসেন খানের এমন রেকর্ডের কথা জানতেন না ইতি। তবে কাল এক সাংবাদিকের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ইতি বলেন, ‘আমি এটা জানার পর আরও বেশি করে চেষ্টা করেছি যেন এই সোনার পদকটাও জিততে পারি। শেষ পর্যন্ত পেরেছি, এ জন্য ভালো লাগছে।’

এই সেরা আর্চার বলেন, ‘গত রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারিনি। এত দিন কিছু নিয়ে টেনশন করিনি। কিন্তু কাল ঘুমাতে পারিনি। মনে হচ্ছিল ঘুমের ঘোরেও কাঁপছি। এরপর সকালে একটু স্বাভাবিক হয়ে অনুশীলন করেছি।’

ইতি আরো বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি এ পর্যন্ত আসতে পারব। আমার মা–বাবা শুরুতে চাইতেন না আর্চারি খেলি। কিন্তু ভালো করার পর ওনারা সহায়তা দেন। এমনকি আমার স্কুলের ম্যাডাম পর্যন্ত কাল ফোন দিয়েছেন। আমি খুব খুশি।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত