সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি কেনার আগে যা দেখে নিবেন

প্রকাশ | ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:৫৯

অনলাইন ডেস্ক

পুরনো গাড়ি কেনাটা সবসময়ই কিছুটা ঝুঁকির বিষয়। বিক্রেতারা সবসময় চেষ্টা করে নিজের গাড়ির ত্রুটিগুলো ঢেকে রাখতে যাতে তারা গাড়িটি সহজে এবং বেশি দামে বিক্রয় করতে পারে। সুতরাং আপনি যদি প্রথমবার গাড়ি কিনতে যান এবং গাড়িটি যদি সেকেন্ডহ্যান্ড হয় তাহলে চেষ্টা করুন সাথে এমন কাউকে (বন্ধু বা কলিগ) নিয়ে যেতে যে গাড়ি সম্পর্কে বেশ অভিজ্ঞ।

কিন্তু আপনি যদি এমন কাউকে না পান তাহলে কি করবেন? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। গাড়ির বাইরের অবস্থা সম্পর্কে চোখে দেখেও কিছুটা আন্দাজ করা সম্ভব। আসল সমস্যা করে গাড়ির ইঞ্জিন। গাড়ির ইঞ্জিন একটি জটিল যন্ত্র যা অনেক সূক্ষ্মভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু ব্যাপারটা সহজ করতে আমরা পাঁচটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। নিচের পাঁচটি জিনিস খেয়াল রাখলেই আশা করি আর ঝামেলা হবে না।

গাড়ির ধোঁয়া পরীক্ষা করুন
প্রথমেই আসি গাড়ির ধোঁয়ার কথায়। ডিজেল চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ধোঁয়া থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যদি পুরানো পেট্রোল চালিত গাড়ি কিনতে চান, তখন দেখবেন গাড়ি থেকে কি ধরণের ধোঁয়া বের হচ্ছে। গাড়ির একজস্ট থেকে ধোঁয়া যদি নীলচে হয় তবে বুঝবেন গাড়িটি এর মোটর অয়েল ব্যাবহার করছে। যদি ইঞ্জিন ঠাণ্ডা থাকা অবস্থায় চালু করার সময় নীলচে রঙের ধোঁয়া দেখা যায় এবং কিছুক্ষণ পরে সেটা চলে যায় তাহলে এটা স্বাভাবিক বলে ধরে নিবেন। কারণ পুরনো ইঞ্জিন থেকে অনেক সময় রাতে তেল চুইয়ে সিলিন্ডার এর উপর পড়ে থাকে তাই সকাল বেলা ঠাণ্ডা ইঞ্জিন চালু করার সময় হাল্কা নীলচে ধোঁয়া থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত ধোঁয়া থাকাটা, বিশেষ করে ইঞ্জিন চালু করারও অনেকক্ষণ পর পর্যন্ত, ভালো লক্ষণ নয়। এধরনের গাড়ি এড়িয়ে চলাটাই ভালো। এছাড়াও যদি গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয় তার মানে গাড়ি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করছে। এটা গাড়ির ইঞ্জিনে কার্বন জমে থাকারও সংকেত দেয়। তাই এ ধরনের গাড়ি এড়িয়ে চলাটাই সবথেকে ভালো।

তেল এর সাথে সম্পর্কিত সবকিছু পরীক্ষা করুন
গাড়ির তেলের মান এবং ইঞ্জিনে তেল এর গভীরতা একটি ডিপস্টিকএর সাহায্যে পরীক্ষা করুন। যদি তেল দেখতে ঘোলাটে মনে হয় তার মানে হচ্ছে এর বর্তমান মালিক অনেকদিন যাবৎ গাড়ির তেল বদলায়নি। আপনি যখন গাড়ির বনেট খুলে পরীক্ষা করবেন ইঞ্জিন এর আশেপাশে চোয়ানো তেল বা জমে থাকা তেলেরদাগ আছে কিনা দেখুন। পুরাতন গাড়ির ক্ষেত্রে ইঞ্জিন এর আশেপাশে সামান্য কাদাটে তেলের দাগ থাকাটাই স্বাভাবিক। এটা কোন সমস্যা নয়। তবে যদি ইঞ্জিনের মাথার দিকটায় বেশি পরিস্কার ও নতুন তেলের দাগ দেখা যায় তবে বুঝতে হবে গাড়ি থেকে নিয়মিতভাবে তেল লিক করে। যেটা ঠিক করতে অনেক সময় ও অর্থ খরচ করতে হবে। টাটকা তেলের দাগের পেছনে আরও বড় কোন সমস্যাও থাকতে পারে। তেলের ঢাকনা খুলে ভেতরে দেখুন। যদি ভেতরে জমে থাকা কার্বন দেখতে না পান তবে সেটা একটা ভালো লক্ষণ। এছাড়াও গাড়ির মালিককে জিজ্ঞেস করুন যে সে সাধারণত গাড়ি কোথায় পার্ক করে এবং সেই জায়গায় অথবা গাড়ির গ্যারেজের মেঝেতে তেলের দাগ আছে কিনা খুঁজে দেখুন।

গাড়ির শীতলকরণ
গাড়িতে কোন শীতলকারক আছে কিনা দেখুন। গাড়ির রেডিয়েটর খুলে দেখুন এর বর্তমান মালিক গাড়িতে কোন অ্যান্টি-ফ্রিজ/অ্যান্টি-বয়েল ব্যাবহার করে কিনা? দুঃখজনক হলেও সত্যি যে বেশির ভাগ পুরনো গাড়ির মালিকরাই গাড়িতে অ্যান্টি-ফ্রিজ ব্যাবহার করে না। যদি গাড়ির রেডিয়েটর ক্যাপ এর নিচে অতিরিক্ত জং এর চিহ্ন পান তবে বুঝবেন গাড়িটি শুধুমাত্র পানি দিয়েই অনেকদিন ধরে চালানো হচ্ছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে রেডিয়েটর ক্যাপ এর নীচে তেল ও জলের মিশ্রণ পাওয়া যায় কিনা? যদি সেখানে ফেনায়িত কোন পদার্থ বা তেল এর চিহ্ন থাকে তবে সেই গাড়ি থেকে দূরে থাকাই নিরাপদ।

ইঞ্জিন এর আওয়াজ
ঠাণ্ডা ইঞ্জিন চালু হওয়ার সময় কিরকম শব্দ হয় দেখুন। সামান্য ক্লিক এর আওয়াজ সাধারণ। এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারণ নেই। ইঞ্জিন গরম হলেই এই শব্দ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে যদি জোরে ধপধপ বা ঠকাঠক আওয়াজ হতে থাকে তাহলে ইঞ্জিনটাকে গরম হতে দিন এবং এক্সেলারেটর সামান্য বাড়িয়ে দিয়ে আবার ভালো করে ইঞ্জিন এর আওয়াজ শুনুন। যদি ইঞ্জিন এরপরেও জোরেশোরে ধাতব আওয়াজ চালিয়ে যায় তবে সেই গাড়িকে বিদায় বলুন। আপনি নিশ্চয় এমন গাড়ি কিনতে চান না যেটা নিয়ে কেনার প্রথম সপ্তহেই গ্যারাজে ছুটতে হবে।

টেস্টড্রাইভ
গাড়ি কেনার আগে একবার চালিয়ে দেখে নিন। এটা আপনাকে গাড়ির সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। ইঞ্জিন ছাড়াও ট্রান্সমিশন গাড়ির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টেস্টড্রাইভ আপনাকে সেটা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। আবার এমনও হতে পারে যে গাড়িটা দেখে আপনার যতটা ভালো লেগেছিলো সেটা চালানোর পর আর ততটা ভালো লাগলো না। তাই গাড়িটা অবশ্যই চালিয়ে দেখবেন।