x

এইমাত্র

  •  সাংসারিক বিরোধে স্বামীর গলা কেটে হত্যা করলো স্ত্রী
  •  ৩ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৬৩৫ জন, মৃত ৩৫ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৫ জন
  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৩০৮ জন

বিশ্ব ডিম দিবস কি ও কেন?

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:০৭

আজ ১২ অক্টোবর ২০১৮ বিশ্ব ডিম দিবস। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে International Egg Commission (IEC) সম্মেলনে প্রথম ডিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। IEC অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার- কে বিশ্ব ডিম দিবস হিসেবে অবহিত করে।

ডিম-এর পুষ্টিমান সম্পর্কে সচেতন করে ভোক্তাদের মাঝে এর ব্যবহার বাড়ানোর অনন্য সুযোগ নিয়ে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৫৫ টি'র ও বেশি দেশে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে। ডিম একটি একটি সম্পূর্ণ আদর্শ খাবার ও গুণসম্পন্ন প্রোটিন যাতে জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সমূহ উপাদান বিদ্যমান থাকে। একটি মাঝারি আকারের ডিমে রয়েছে ৭০-৭৫ কিলো-ক্যালরি এনার্জি, ৬-৬.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৫-৫.০ গ্রাম চর্বি, সাত ধরনের প্রোটিন ও বিবিধ ধরণের খনিজ। ডিম একটি সর্বোৎকৃষ্ট মানের প্রোটিন (আমিষ)- এর উৎস। এটি পৃথিবীব্যাপি পরিবারের সকলের খাদ্য উৎস। ডিম গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য প্রধানতম প্রোটিন যোগায়। ডিমের প্রোটিন মানুষের মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না; বরং স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমায়। ডিমের বায়োলজিক ভ্যালু ৯৪% যেখানে দুধের মাত্র ৮৪%। ডিমের মধ্যে মানব ব্রেন সেল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কলিন থাকে যা স্মৃতি ও মস্তিষ্ক উনয়নে প্রধান সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ডিমের কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলের উপর কোন বিরূপ ফেলে না। ডিমে রয়েছে এন্টিওক্সিডেন্ট- লুটিন ও জিয়াজেনথিন; যা মানুষের বয়সজনিত কারণে চোখে কম দেখা বা সাময়িক অন্ধত্ব (Macular Degeneration) প্রতিরোধ করে। শুধু তাই নয়- ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ ডিম রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড অত্যন্ত কার্যকর ভাবে কমায়। 
সর্বোপরি ডিম একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, সহজ পাচ্য, সহজে রান্নাযোগ্য ও সংরক্ষণযোগ্য অসাধারণ স্বাদ এর একটি খাবার। তাই সর্বগুণ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক এই ডিম প্রতিদিন ২/৩ টি করে সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাংলাদেশের মানুষের বছরে গড় ডিম খাওয়ার পরিমাণ মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) মতে যা অন্তত ১০০ টি'র অধিক হওয়া উচিত।

অনুসন্ধানে দেখা যায়- আজকের পৃথিবীর যেসব দেশ উন্নতির চরম শিখরে আরহন করছে- সেসব দেশের মানুষের বছরে ডিম খাওয়ার পরিমাণও অনেক বেশি। তাই আমাদের মনে রাখতে হবে-মেধাবী, সুস্থ-সবল, উন্নত জাতি গঠনে ডিমের কোন বিকল্প নাই। এবারের বিশ্ব ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Protein for Life’ অর্থাৎ ‘জীবনের জন্য প্রোটিন’।

লেখক: ভেটেরিনারিয়ান

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত