x

এইমাত্র

  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৭৭ লাখ ১৭ হাজার ৯৭০ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪১ জন
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ৩১৬৩ জন, মৃত ৩৩ জন

‘অন্যায় সুবিধা নেওয়ার মানসিকতা বদলাতে হবে’

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৬, ০১:১৯

প্রবীণ গুণী অভিনয় শিল্পীদের পরে নতুনদের মধ্যে গুণী শিল্পীদের যে শূন্যতা রয়েছে এই শূন্যতার মধ্যেও কেউ কেউ নিজ গুণেই ছড়াচ্ছেন আপন অভিনয় দীপ্তি। দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে জানান দিচ্ছেন আমাদের অভিনয় শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্তনের। সেই দীপ্তি ছড়ানো আর আশা জাগানিয়া নবীনদের অন্যতম অভিনেত্রী সাবিলা নূর। নিজের মেধা আর অভিনয় শৈলী দিয়ে খুব অল্প সময়েই নিজেকে তুলে নিয়েছেন আলোকিত আর আলোচিতদের কাতারে। এবার জাগরণীয়ার মুখোমুখি সাবিলা নূর

জাগরণীয়া: ঈদের কাজের ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?
সাবিলা নূর: এখন ঈদের কাজ নিয়েই সব ব্যস্ততা। প্রায় এগারোটা কি বারোটা নাটকে কাজ করছি। কিছু কাজ শেষ, কিছু কাজ বাকি আছে। 

জাগরণীয়া: এর মধ্যে বিশেষ কোন কাজ আছে যা আলাদাভাবে উল্লেখ করতে চান?
সাবিলা নূর: এরমধ্যে মাহফুজ ভাইয়ের দুইটা নাটকে কাজ করছি, একটা টেলিফিল্ম আর একটা ছয় পর্বের নাটক। ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল ভাইর একটা তিন পর্বের নাটকে কাজ করছি, এটার নাম ‘যা কিছু ঘটে’। হিমেল আশরাফের ‘পাষাণ ইজ ব্যাক’ টেলিফিল্মে কাজ করছি সেখানে আমার কো আর্টিষ্ট সালাহউদ্দিন লাভলু। লাভলু ভাইয়ের সাথে কাজ করাটা অবশ্যই বিশেষ আনন্দের। অনেক সুন্দর একটা অভিজ্ঞতা ছিল, একদম আলাদা। হিমেল আশরাফেরই আরেকটা কাজ করেছি ‘জোনাকির আলো’, জোভান এর সাথে।

জাগরণীয়া: মিডিয়ার শুরুটা কিভাবে?
সাবিলা নূর: মিডিয়ার শুরুটা আমার ২০১০ সালে একটা টিভিসি তে, হেয়ার অয়েলের টিভিসি ছিল। 

জাগরণীয়া: এতোগুলো মাধ্যম থাকতে অভিনয়ে এলেন কেন?
সাবিলা নূর: আসলে খুব ছোট থেকে যখন আমার বয়স ৩ বা সাড়ে ৩ তখন থেকে আমি নাচ করতাম। নাচের প্যাশনটা থেকেই আসলে অভিনয়ে আসা। কারন নাচের মধ্যে অভিনয় খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ। তো ঐ জায়গা থেকেই একটা কৌতুহল ছিল অভিনয়ে আসার।

জাগরণীয়া: নতুন যারা আসছে তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন মিডিয়ায় স্থায়ী হতে পারছে না, দেখা যাচ্ছে আসছে এবং কয়েকটা কাজের পর তাদের আর কোনো কাজে দেখা যাচ্ছে না, এর পিছনে কারণটা কি?
সাবিলা নূর: এর পিছনে কারণটা আমি আসলে মনে করি, নতুন পুরাতন এর বিষয় না। বিষয়টা হচ্ছে যে, যে কারোই যদি প্রপার লেভেল অফ ডেডিকেশনটা থাকে, সে যদি পাংচুয়াল হয়, সময় মতো কাজ করে, ১০০% ডিভোশন দিয়ে কাজ করে, প্যাশন দিয়ে কাজ করে, সে নতুন হোক পুরাতন হোক যেই হোক সে টিকবেই।

জাগরণীয়া: আপনি বলছেন নতুনরা টিকলেই একসময় তারা পুরাতন হবে!
সাবিলা নূর: ঠিক, কিন্তু পুরাতনও তো অনেকে আছেন যারা আগে অনেক ভাল কাজ করতেন কিন্তু এখন আর আগের মতো দেখা যাচ্ছে না।

জাগরণীয়া: হয়তো অভিনয় এর প্রতি যে ভালবাসাটা থাকে এর চেয়ে জনপ্রিয়তার জন্য, মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য, মানুষ দেখলে অটোগ্রাফ চাইবে, ছবি তুলবে, সেলফি তুলবে, এই যে ভাবনাটা, এই ভাবনাটাই কি তাদের দীর্ঘস্থায়ী হতে দিচ্ছে না?

সাবিলা নূর: হয়তো। কিন্তু আমি দেখেছি জনপ্রিয় হওয়ার যে তৃষ্ণাটা তার থেকে অনেকে হয়তো বেশি ভাল কাজ করতে চায়। কারণ অবশ্যই একটা মানুষ যদি ভাল কাজ না করে তবে সে কিন্তু জনপ্রিয় হতে পারবে না, একটা মানুষ যদি দর্শককে ভাল কিছু, একটু ভিন্ন কিছু না দেয় তাহলে কিন্তু দর্শকের তার কথা মাথায় থাকবে না।

ছবি: সৈকত আমীন

জাগরণীয়া: নতুন তো অনেকের সাথে কাজ করছেন, তো এই যে আমরা বলি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, নাটকের ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন দরকার। আপনার কি মনে হয়, নতুন যারা কাজ করছে তাদের কাজের মানে সেই পরিবর্তন আছে?

সাবিলা নূর: এই ঈদের সময়ে আমার নতুন কোন ডিরেক্টর এর সাথে কাজ করা হয়নি, কারণ যেটা হয়েছে ইশতিয়াক আহমেদ রুমেল, মাহফুজ আহমেদ ওনারা এতো আগে থেকেই আমার ডেট নিয়ে রেখেছেন যে এবার নতুন কাউকে সময় দেওয়াটা হয়ে উঠেনি।

কিন্তু আমার মনে হয় যে সবাই তো নতুন থাকে শুরুতে, নতুন থেকেই পুরনো হয় যেমনটা আপনিও একটু আগে বললেন। তাই নতুন ডিরেক্টরদের বাজেট এবং টাইম এই দুইটা জিনিসের পরিপূর্ণতা না থাকার কারণে হয়তো তাদের কাজগুলো একটু অগোছালো হয় অনেক সময়, কিন্তু স্ক্রিপ্ট ভালো থাকে। এরকম আমি বেশ কিছু স্ক্রিপ্ট পেয়েছি যে স্টোরি খুব ভালো এবং এক্সিকিউশন দারুণ।

যেমন আমি একটা কাজ করেছি মনিরুজ্জামান লিপন এর, ওনি এর আগে তেমন একটা কাজ করেননি। একটা করেছেন ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ নামে। পুরানো ঢাকা বেজড একটা গল্প, কনসেপ্টটা অসম্ভব সুন্দর এবং গল্পটাও খুব সুন্দর, ওনি যদি ঠিকমতো এটা পর্দায় তুলে দিতে পারেন তাহলে খুব ভালো একটা কাজ পাবে দর্শকরা। 

তাই বলছি নতুনদের যদি একটু হেল্প করা হয়, আর্টিস্টরাও যদি হেল্প করে তাহলে ওদের কাজ অবশ্যই ভাল হবে।

ছবি: সৈকত আমীন

জাগরণীয়া: একজন ফিমেল আর্টিস্ট হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করতে গেলে কি কি প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়? 

সাবিলা নূর: বেশ কিছু! আমি প্রথমেই বলবো লোকেশন এর ক্ষেত্রে। লোকেশন এর ক্ষেত্রে আমাদের চেঞ্জ করার কোনো জায়গা নেই, ওয়াশরুমের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কিছু কিছু ক্ষেত্রে আনকমফোর্টেবল হয়ে যায় কাজ করা।

আর অন্য যে বিষয়ে বলবো, সেই ব্যাপারে আসলে আমি অনেক লাকি। আমি এটা কোনো ডিপ্লোম্যাটিক উত্তর দিচ্ছি না, আমি আসলেই খুব লাকি কারণ এখন পর্যন্ত আমার যতটুকুই জার্নি হয়েছে খুব স্মুথলি হয়েছে, আমি কোনো রকমের অপ্রীতিকর কিছু এখন পর্যন্ত ফেস করিনি।

জাগরণীয়া: আপনি ফেস করেননি তার মানে তো নিশ্চয়ই এই না যে বাকি আট দশজন মেয়েকে ফেস করতে হচ্ছে না। আমি আসলে জানতে চাচ্ছি সম্মিলিত ভাবে মেয়েদের কাজের ক্ষেত্রটা কি দাঁড়ায়?

সাবিলা নূর: কাজের জন্য যদি কেউ মরিয়া হয়ে যায় তখন অনেকে লিমিট ক্রস করে ফেলে শুধু কাজটা পাওয়ার জন্য। এটার সুবিধা নেন কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষ আর এই সমস্যাটা থেকেই ছোট ছোট করে এক সময় অনেক বড় সমস্যা দাঁড়ায়। তবে অনেক শিক্ষিত সচেতন মানুষও আসছে কাজ করতে। সাধারণত যেটা হয়, শিক্ষিত একজন মানুষ কাজ পেতে মরিয়া হয়ে থাকে না যে আজকেই কাজ চাই। এ কারণে আমরা হয়তো এই সমস্যাগুলোতে পড়ছি না, কিন্তু অনেকে পড়ছে।

ছবি: সৈকত আমীন

জাগরণীয়া: কিন্তু আমাদের মিডিয়ায় সামগ্রিক ভাবে নারীবান্ধব বলে যে শব্দটা আছে, সেই নারীবান্ধব কাজের পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে, সাচ্ছন্দে কাজ করার জন্য কোন কোন উদ্যোগগুলো নেওয়া জরুরী বলে মনে করেন?

সাবিলা নূর: প্রথমটা হচ্ছে অবশ্যই একটা মেয়ের বিপদে অন্যায় সুবিধা নেওয়া যাবে না। হতে পারে সে একজন ডিরেক্টরকে বা একজন প্রডিউসারকে ফোন করে বলছে, ভাইয়া আমাকে একটা কাজ দেন আমার মা খুব অসুস্থ, আমার কিছু টাকার প্রয়োজন, আমার একটা কাজ লাগবে আমাকে কাজ দেন। এই জিনিসটা খুব স্বাভাবিক যে একজন আরেক জনের কাছে থেকে বিপদের সময় সাহায্য চাইবে। কিন্তু এটাকে ঘিরে যখন কেউ অন্যায় সুবিধা নেওয়া শুরু করে তখনই কিন্তু ঝামেলাটা হয়। প্রথমত অন্যায় সুবিধা নেওয়ার যে মানসিকতা এটাই বদলাতে হবে। এটা বদলাতে পারলেই ধীরে ধীরে সব সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে।

ছবি: সৈকত আমীন

জাগরণীয়া: একজন অভিনয় শিল্পী বা পরিচালক হতে গেলে বেশ কিছু বিশেষ যোগ্যতা থাকতে হয়। কিন্তু একজন প্রযোজক হওয়ার জন্য তার টাকা থাকার যোগ্যতাটাই কি যথেষ্ট? নাকি আরো কিছু যোগ্যতা থাকা উচিত? আপনি কি মনে করেন? 

সাবিলা নূর: একজন প্রডিউসার কি করছে, সে টাকা ইনভেস্ট করছে। মূলত একজন প্রডিউসারের মাথায় থাকা উচিত তার ইনভেস্টমেন্টটা সফল হচ্ছে কিনা। সেই ক্ষেত্রে একজন প্রডিউসার যদি না জানে যে ফ্রেমটা ঠিক কি না, বা ধরা যাক একটা দৃশ্য চলছে, কান্নার দৃশ্য। কিন্তু ওখানে যে ফ্রেমটা ধরছে তা কান্নার জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট কি না, একজন প্রডিউসার এর তো অবশ্যই তা জানা উচিত। 

এখন তার যদি শুধু টাকা থাকে এবং সেটে এসে চেঁচামেচি করে বেড়ায় টাকা দিয়ে এটা করেছি ওটা করেছি তাহলে তো হলো না। তার মিনিমাম ক্ষেত্রে অ্যাকটিং এর সেন্সও জানা উচিত এবং ডিরেকশন এর সেন্সও জানা উচিত, অন্তত একদম বেসিক টা। 

জাগরণীয়া: নন্দন তত্ত্ব বা শিল্প সম্পর্কে তার একটা বেসিক ধারনা থাকা উচিত বলছেন?
সাবিলা নূর: ঠিক তাই

জাগরণীয়া: আচ্ছা আমাদের দর্শকরা ভারতমুখো হয়ে পড়ছে, কেন? এবং কোন পরিবর্তনগুলো হলে আমাদের শিল্প ভারতের সাথে টক্কর দিয়ে আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারবে বলে মনে করেন?

সাবিলা নূর: এক হচ্ছে বিজ্ঞাপন বিরতি, এটা তো সবাই বলে যে একটা চ্যানেল তাদের বিরতি কমিয়ে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করলেই ওটার প্রতি মানুষের অন্য রকম একটা আকর্ষণ জন্ম নেয়। আর আমার মনে হয় না যে আমাদের কাজের মান খারাপ। তবে হ্যাঁ, আমাদের কাজের মান আরো ভালো হতে পারবে, আমাদের ভালো বাজেট দিলে আরো ভালো হবে। তবে আমাদের কাজের মানটা কিন্তু খুব বেশি খারাপ না। 

বৃহৎ পরিসরে যদি আমরা মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারি, তাহলে আমি মনে করি এটা সম্ভব। যেমন আমরা যখন কোনো সিরিয়ালে কাজ করি মানুষ তো ধরেই নেয় আরে কেউ তো দেখবে না, এই ধরনের ভাবনা থেকে মোটিভেশনটা কমে যায় যে কেউ তো দেখবে না, ভালো কাজ করে তাহলে কি হবে? কিন্তু আসলে যদি আমরা দর্শকদের চোখটা বাংলা চ্যানেলে আনতে পারি তাহলে এমনিতেই আমাদের কাজের মোটিভেশনটা বাড়বে এবং কাজের মানও বেড়ে যাবে।

ছবি: সৈকত আমীন

জাগরণীয়া: ভবিষ্যৎ নিয়ে কি পরিকল্পনা?
সাবিলা নূর: আমি আসলে ভবিষ্যৎ নিয়ে একদমই ভাবি না। আমি ভাবি ভালো ভালো কাজ, ভালো ডিরেক্টর, ভালো অ্যাকটিং নিয়ে যতদূর যাওয়া যায় ততদূর যাবো।

জাগরণীয়া: বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবনা...
সাবিলা নূর: আমি আপাতত পড়াশোনা করছি, এবং আমার পড়াশোনা নিয়ে পরিবার খুব সিরিয়াস, এবং অনেক বেশি স্ট্রিক্ট। সিনেমাটা হচ্ছে অনেক বড় পরিসরের একটা কাজ। অনেকে হয়তো আছে যারা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই বড় পর্দায় চলে যাচ্ছে। এটা আমার কাছে ভুল মনে হয়। বড় পর্দায় কাজ করার জন্য অন্তত প্রপার গ্রুমিং এবং ম্যাচিউরিটিটা আসা উচিত। আমার মতে আমার এখনো সেই ম্যাচিউরিটিটা আসেনি। যখন আসবে আমি হয়তো তখন চিন্তা করবো।

জাগরণীয়া: কোথায় পড়াশোনা করছেন? 
সাবিলা নূর: আমি নর্থ সাউথে পড়াশোনা করছি বিবিএ ফোর্থ সেমিস্টার।

জাগরণীয়া: বাংলা নাটক নিয়ে স্বপ্ন কি?
সাবিলা নূর: স্বপ্ন! স্বপ্ন আসলে ভাল কাজের স্বপ্ন, এইটুকুই।

জাগরণীয়া: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে সময় দেওয়ার জন্য
সাবিলা নূর: জাগরণীয়াকেও ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত