x

এইমাত্র

  •  করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে নতুন সংক্রমিত দু'জন, মোট রোগী ৫১
  •  বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩৮ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত সাড়ে ৭ লাখের বেশি মানুষ
  •  নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ি ভাড়া মওকুফের অনুরোধ মেয়র আতিকের
  •  রোগীর সেবাকারীরাই পিপিই পাচ্ছেন না, অন্যরা পরে ঘুরে বেড়াচ্ছেনঃ প্রধানমন্ত্রী

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নাট্য উৎসব

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৫:৫৮

জাগরণীয়া ডেস্ক

বাংলাদেশে ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে ধর্ষণ। প্রতিদিনই খবরের কাগজ উল্টালেই ধর্ষণের একাধিক খবর। বেসরকারি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদন এবং পুলিশের তথ্যেও ধর্ষণের এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৬৩০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ সময় ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ নারীকে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এই বছরের ১ জুলাই প্রকাশিত ছয় মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ছয়টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ৪০৮টি সংবাদ বিশ্নেষণ করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) জানাচ্ছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে ৩৯৯টি শিশু। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) জানিয়েছে, একই সময়ে সারা দেশে ৪৯৬টি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ১৫টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘শিশু অধিকার লঙ্ঘন’ শীর্ষক এ উপাত্ত প্রকাশ করে সংস্থাটি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিনই গড়ে চার-পাঁচজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিত্‍সা নিতে আসছেন৷ আর প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতাকে চিকিত্‍সা দিচ্ছেন তারা৷ এই হিসাব হচ্ছে যারা ওসিসিতে চিকিত্‍সা নিতে আসেন তাদের৷ এছাড়া দেশের অন্যান্য হাসপাতাল এবং চিকিত্‍সা কেন্দ্রে যারা চিকিত্‍সা নেন তাদের হিসাব নেই ওসিসি'র কাছে৷ চিকিত্‍সার বাইরে যারা থাকেন, ‘সামাজিক লজ্জায়’ যারা ঘটনা প্রকাশ করেন না তাদের হিসাব পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ওসিসি'র মতে সাধারণত এর শিকার ১৮-১৯ বছর বয়সি মেয়েরা৷

বিশ্লেষকরা বলছেন এর জন্য আইনের প্রয়োগে ঢিলেমি এবং সামাজিক অবস্থা কাজ করছে৷ তাদের মতে, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চরম নৈতিক অবক্ষয়, আকাশ সংস্কৃতি, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতা, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা।

এদিকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে একাধিক বেসরকারি সংস্থা সচেতনতামূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। গত ০৭ ডিসেম্বর (শনিবার) প্ল্যাণ ইন্টারন্যাশনাল, আরএইচস্টেপ এবং আরএইচআরএন বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় ইচ্ছে ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে মিরপুর-১২, আর্দশবাগ ডুইপ প্লটের মাঠে একটি নাট্য উৎসব করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফিরোজ আহমেদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার চাইল্ডস গভার্নেন্স এন্ড ইয়ুথ সিটিজেনশিপ আমিনা ফেরদৌস মনি, নজরুল ইসলাম এবং আরএইসস্টেপ-এর উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম), আরএইসস্টেপ- আরএইচআরএন-এর ফোকাল পারসন ডা. এলভিনা মোস্তারি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্যে ফিরোজ আহমেদ বলেন ‘নারী সমাজের একটি অংশ এবং সমাজের উন্নয়নে নারী একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বক্তব্যের শেষে তিনি নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন।

প্ল্যাণ ইন্টারন্যাশনাল এর পক্ষ থেকে আমেনা ফেরদৌস মনি বলেন, আসুন আমরা হাতে হাত রেখে সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং নারী পুরুষ হিসেবে পরিচিত না হয়ে মানুষ হিসেবে পরিচিত হই।

নজরুল ইসলাম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পুলিশ সাধ্যমত চেষ্টা করছে। কেবল আইনের মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব নয়। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যের পরপরই সুরভির স্কুলের ছোট ছোট শিশুদের দলীয় নাচের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  এরপর ‘নারী পুরুষ সমান সমান, নারীরা বয়ে আনবে দেশের কল্যাণ’-এই প্রতিপাদ্যে ইচ্ছে ফাউন্ডেশনের পরিবেশনায় ‘অভিন্ন’ নামে একটি নাটক পরিবেশিত হয়। নাটক, দলীয় নৃত্য, কোরাস গান আর কবিতা আবৃত্তি শেষে শুরু হয় কনসার্ট। কনশার্টে ব্যান্ড ‌‌‌‘বাঙাল’-এর গানে দর্শকরা মেতে উঠেন।

‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে’-নাট্য উৎসবের মিডিয়া পার্টনার ছিলো জাগরণীয়া।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত