x

এইমাত্র

  •  সাংসারিক বিরোধে স্বামীর গলা কেটে হত্যা করলো স্ত্রী
  •  ৩ হাজার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৬৩৫ জন, মৃত ৩৫ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৫ জন
  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৩৩ লাখ ৬২ হাজার ৩০৮ জন

এসো পা বাড়াই (৪০ তম পর্ব)

প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৭

"মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সাথে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত, কিন্তু কেন? ফেসবুক এর চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ (Sheryl Sandberg) এর বই 'Lean In'- এ তিনি দেখিয়েছেন এ সমস্যার মূলে কি, কিভাবে নারীরা নেতৃত্ব অর্জন করতে পারে, তার পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারে। তার নিজের জীবন এবং পাশ্চাত্যের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও সারা পৃথিবীর নানা পরিসংখ্যান আর গবেষণার রেফারেন্স দিয়ে তিনি এই বইকে সমৃদ্ধ করেছেন সমস্ত মানব জাতির জন্য। আমার আন্তরিক ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষও এই বই পড়ে উপকৃত হোক। সেই ইচ্ছা থেকেই অনুবাদের এই প্রচেষ্টা। ইতোমধ্যেই ২০টিরও অধিক ভাষায় এই বইয়ের অনুবাদ করা হয়েছে। এই বইয়ের নামে একটি আন্তর্জাতিক চক্রও গড়ে উঠেছে (http://leanin.org/) যেখানে সারা পৃথিবী থেকে যে কেউ চাইলে যুক্ত হতে পারে। মূল বইয়ে রেফারেন্স গুলোর বিস্তারিত দেয়া আছে।"

LEAN IN                                                                   এসো পা বাড়াই
WOMEN, WORK AND THE WILL TO LEAD        নারী, কাজ এবং নেতৃত্বের ইচ্ছা
WRITER: SHERYL SANDBERG                            অনুবাদ: আফরিন জাহান হাসি

আমার পুরো শিশুকাল জুড়েই আমার পিতামাতা একটি অর্থপূর্ণ জীবন অর্জনই গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দিয়েছেন। রাতের খাবারের আলোচনা প্রায়ই কেন্দ্রীভূত থাকতো সামাজিক অবিচার এবং যারা পৃথিবীকে উন্নত করতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে সেসবের উপর। শিশু হিসেবে আমি কখনোই ভাবিনি আমি কি হতে চাই কিন্তু আমি অনেক বেশি ভেবেছি আমি কি করতে চাই। এখন যতই হাস্যকর শোনাক না কেন, আমি পৃথিবীকে বদলে দিতে চাইতাম। আমার বোন এবং ভাই দুজনেই ডাক্তার হয়েছেন, আর আমি সবসময় ভাবতাম কোন নন প্রফিট প্রতিষ্ঠানে বা সরকারি কাজ করবো। ওটাই ছিল আমার স্বপ্ন। আমি বিশ্বাস করি না যে পেশাগত ক্ষেত্রে প্রতি পদক্ষেপের মানচিত্র এঁকে নিতে হবে, কিন্তু আমি এটা বিশ্বাস করি যে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন বা লক্ষ্য সবসময় সাহায্য করে।

একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্ন সবসময় বাস্তবানুগ কিংবা সুনির্দিষ্ট হতে হবে তা নয়। একটি বিশেষ ক্ষেত্রে কাজ করার ইচ্ছা বা সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছাও এতে প্রতিফলিত হতে পারে। স্বপ্নটা হতে পারে স্বনির্ভর পেশার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ অবসর সময় কাটানোর। হতে পারে এমন কিছু সৃষ্টির স্বপ্ন যা স্থায়ী হবে বা আকাঙ্ক্ষিত পুরষ্কার জয়ের স্বপ্ন। কিছু লক্ষ্যের ক্ষেত্রে দরকার হয় গতানুগতিক পথের, যে কেউ যিনি একজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে চান তার হয়ত উচিত হবে আইন স্কুলে ভর্তি দিয়ে শুরু করা। এমনকি একটা অস্পষ্ট লক্ষ্যও দিক নির্দেশনা দিতে পারে। 

শৈশবের স্বপ্নের প্রতি নজর রেখেই, কলেজ থেকে বের হয়ে আমি প্রথম যে কাজটা নিয়েছিলাম সেটা ছিল, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এ ল্যারি সামারস এর গবেষণা সহকারী এর কাজ। ল্যারি সামারস (Larry Summers) যিনি প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে এক মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসি ভিত্তিক এই ব্যাংকটির মিশন হলো বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য হ্রাস করা। ১৯ নাম্বার রোড এবং পেনসিলভেনিয়ার কোণায় ব্যাংক লাইব্রেরির গাদা করা স্তুপে আমি আমার প্রথম নয় মাস কাটিয়ে দিয়েছিলাম ল্যারির কাগজপত্র এবং বক্তৃতার তথ্য আর পরিসংখ্যান খুঁজে। ল্যারি তখন উদারতা দেখিয়ে আমাকে ইন্ডিয়ার এক স্বাস্থ্য বিষয়ক মিশনে যোগদানের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, ব্যাংক আসলে কিভাবে কাজ করে তার ব্যবহারিক প্রয়োগ কাছ থেকে দেখার জন্য।

ভারতে উড়ে যাওয়া আমাকে নিয়ে গিয়েছিল পুরোপুরি এক আলাদা জগতে। পুরো দলটি কাজ করছিল কুষ্ঠরোগ নির্মূল করতে, যা ছিল ভারতের সবচেয়ে প্রত্যন্ত ও দরিদ্রতম অঞ্চলের স্থানীয় রোগ। পরিস্থিতি ভয়াবহ ছিল। রোগের কলঙ্কের কারণে রোগীরা প্রায়ই তাদের গ্রাম থেকে নির্বাসিত হত এবং শেষে ক্লিনিকের জন্য নেয়া ময়লা মেঝেতে ভয়ংকর জায়গায় পড়ে থাকতো। তথ্য এবং পরিসংখ্যান আমাকে কখনই এই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে পারতো না। সেসব লোকের জন্য আমার গভীরতর শ্রদ্ধা যারা সঙ্কটাপন্ন লোকদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিলেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজ।

আমি ডিসি-তে ফেরত এসেছিলাম আইন পড়ার পরিকল্পনা নিয়ে কিন্তু ল্যান্ট প্রিচেট (Lant Pritchett) নামে ল্যারির অফিসের এক অর্থনীতিবিদ যিনি তার জীবন উৎসর্গ করেছেন দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণায়, তিনি আমাকে রাজি করিয়েছিলেন যে বাণিজ্য নিয়ে পড়াটা ভাল বিকল্প হবে। আমি ক্যামব্রিজের দিকে রওনা হয়েছিলাম। আমি সামাজিকভাবে সচেতন থাকার চেষ্টা করেছিলাম একেবারে অখ্যাত সব অলাভজনক ক্লাবগুলোতে যোগ দিয়ে। এছাড়াও দ্বিতীয় বছর আমি ব্যয় করেছিলাম সামাজিক বিপণন শিখতে- প্রফেসর কাশ রাঙ্গন (Kash Rangan) এর সাথে- কিভাবে সামাজিক সমস্যা সমধানের জন্য বিপণন ব্যবহৃত হতে পারে। এর মধ্যে একটা কাজ ছিল, মানুষের অঙ্গ দান করার স্বল্পতা নিয়ে সচেতনতা তৈরী, অঙ্গ স্বল্পতার কারণে শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রতিদিন ১৮ জন মানুষ মারা যায়। এ বিষয়টা আমি কখনোই ভুলবো না, ১৭ বছর পর ফেসবুক, দাতা নিবন্ধীকরণকে উত্সাহিত করার জন্য একটি সরঞ্জাম চালু করে বিশ্বজুড়ে অঙ্গ নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেছিল। 

(চলবে...)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত