x

এইমাত্র

  •  চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মৃতদেহ হস্তান্তর শুরু করেছে ঢাকা মেডিকেল
  •  চকবাজারের ঘটনায় শিল্পমন্ত্রণালয়ের ১২ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘোষণা

এসো পা বাড়াই (৩৯ তম পর্ব)

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:৫১

"মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সাথে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত, কিন্তু কেন? ফেসবুক এর চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ (Sheryl Sandberg) এর বই 'Lean In'- এ তিনি দেখিয়েছেন এ সমস্যার মূলে কি, কিভাবে নারীরা নেতৃত্ব অর্জন করতে পারে, তার পূর্ণ ক্ষমতার ব্যবহার করতে পারে। তার নিজের জীবন এবং পাশ্চাত্যের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও সারা পৃথিবীর নানা পরিসংখ্যান আর গবেষণার রেফারেন্স দিয়ে তিনি এই বইকে সমৃদ্ধ করেছেন সমস্ত মানব জাতির জন্য। আমার আন্তরিক ইচ্ছা বাংলাদেশের মানুষও এই বই পড়ে উপকৃত হোক। সেই ইচ্ছা থেকেই অনুবাদের এই প্রচেষ্টা। ইতোমধ্যেই ২০টিরও অধিক ভাষায় এই বইয়ের অনুবাদ করা হয়েছে। এই বইয়ের নামে একটি আন্তর্জাতিক চক্রও গড়ে উঠেছে (http://leanin.org/) যেখানে সারা পৃথিবী থেকে যে কেউ চাইলে যুক্ত হতে পারে। মূল বইয়ে রেফারেন্স গুলোর বিস্তারিত দেয়া আছে।"

LEAN IN                                                                   এসো পা বাড়াই
WOMEN, WORK AND THE WILL TO LEAD        নারী, কাজ এবং নেতৃত্বের ইচ্ছা
WRITER: SHERYL SANDBERG                            অনুবাদ: আফরিন জাহান হাসি

একটি জঙ্গল জিম-এ হামাগুড়ি দিয়ে আরোহণই আমার কর্মজীবনের সেরা বর্ণনা। তরুণ সহকর্মী আর ছাত্ররা প্রায়ই আমার কাছে জানতে চায়, কিভাবে আমি আমার পথ পরিকল্পনা করেছিলাম। যখন আমি বলি যে আমি কোন প্ল্যান করিনি, তারা অবাক হওয়ার সাথে সাথে স্বস্তি অনুভবের প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা মনে হয় অনুপ্রাণিত হয় এই জেনে যে কর্মজীবনে, শুরু থেকেই মানচিত্র এঁকে নেয়ার দরকার নেই। কঠিন চাকুরীর বাজারে এটা বিশেষভাবে স্বস্তিদায়ক যখন প্রার্থীকে যা আছে তাই গ্রহণ করতে হয় আর আশা করতে হয় যে এটাই লক্ষ্যের পথে দিক নির্দেশনা দিবে। আমরা সবাই এমন একটা চাকুরী বা পদ চাই যা আসলেই আমাদেরকে উদ্দীপিত এবং নিয়োজিত করবে। এই খোঁজার ক্ষেত্রে দৃষ্টি নিবন্ধ করার সাথে সাথে নমনীয়তারও দরকার আছে, তাই আমি পরামর্শ দিবো দুই লক্ষ্যে একই সঙ্গে কাজ করতে: একটি দীর্ঘ মেয়াদী স্বপ্ন এবং একটি আঠারো মাসের প্ল্যান।

আমি যেখান থেকে শুরু করেছিলাম সেখান থেকে, কখনোই আজকে আমি যেখানে তার সাথে বিন্দুগুলো যোগ করতে পারতাম না। কারণ, আমি যখন কলেজ পাশ করেছিলাম তখন মার্ক জাকারবার্গ ছিল মাত্র সাত বছরের ছেলে। এছাড়াও তখন আমার নিজেরও প্রযুক্তির সাথে আসলে কোন গভীর সম্পর্ক ছিল না। আমি স্নাতকের ছাত্র অবস্থায় হার্ভার্ডের কম্পিউটার সিস্টেম মাত্র একবার ব্যবহার করেছিলাম, তাও আমার সিনিয়রের ইকোনোমিক্স এ প্রকাশের জন্য করা থিসিসের কাজে, যেটাতে পারিবারিক নির্যাতনের পরিবর্তনশীল সংশ্লিষ্ট মানগুলির মধ্যে সম্পর্ক পরিমাপ করতে হয়েছিল। তথ্যগুলো বড়, ভারী চৌম্বকীয় ফিতায় সংরক্ষণ করা ছিল, যা আমাকে প্রচন্ড কষ্ট করে ক্যাম্পাসে বয়ে বেড়াতে হয়েছিল, ঘেমে নেয়ে যেন এক অভিশপ্ত পথ পার হয়ে আমি একমাত্র কম্পিউটার সেন্টারটিতে পৌঁছেছিলাম, যা একচেটিয়াভাবে পুরুষ ছাত্রদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল। তারপর ফিতা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তথ্যগুলো প্রবেশ করাতে আমি সারারাত জেগেছিলাম। যখন আমি সর্বশেষ হিসাব কার্যকর করার চেষ্টা করছিলাম, তখন পুরো সিস্টেমকে অচল করে ফেলেছিলাম। চিন্তার কিছু নেই, সবকিছু ঠিক আছে। বছর খানেক আগে মার্ক বিখ্যাত হয়েছিল একই হার্ভার্ড সিস্টেম বিপর্যস্ত করে, এটাতে আমি তাকে আগেই পরাজিত করেছি। 

আমি যখন কলেজ পাশ করেছিলাম, তখন আমার কেবল মাত্র কিছু অস্পষ্ট ধারণা ছিল কোন দিকে এগোচ্ছি। আমার বাবা কি করতে চান সে বিষয়ে তরুণ বয়স থেকে তার স্পষ্ট দৃঢ়তা ছিল, যেখানে আমার এই দ্বিধা তার চিন্তার সাথে গভীরভাবে বিপরীত। আমার বাবার যখন মাত্র ষোল বছর বয়স, তখন একদিন বাস্কেটবল অনুশীলনের সময় পেটে তীব্র ব্যথা হয়েছিল। আমার দাদী- যিনি একজন ভালো ইহুদী মাতা- ভেবেছিলেন এটা ক্ষুধার কারণে হয়েছে এবং তিনি তাকে খুব ভালো করে খাইয়েছিলেন, যার ফলে আরও খারাপ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল, তার তীব্র এপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়েছিল। কিন্তু যেহেতু তিনি ভরপেট খেয়েছিলেন, তারা অপারেশন করতে পারছিলেন না, দুঃসহ বারো ঘন্টা। পরেরদিন সকালে একজন সার্জন তার এপেন্ডিক্স ও সেইসাথে তার ব্যথা দূর করেছিলেন। আমার বাবা সেই দিনই তার পেশা বেছে নিয়েছিলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি একজন চিকিৎসক হবেন যাতে তিনি অন্যদের যন্ত্রণা লাঘব করতে পারেন।    

আমার মা অন্যদের সাহায্য করার ক্ষেত্রে আমার বাবার ইচ্ছার ভাগিদার হয়েছিলেন। মাত্র এগারো বছর বয়সে তিনি শুনেছিলেন তার রাব্বী একটি ধর্মোপদেশ দিয়েছেন, নাগরিক অধিকারের গুরুত্ব এবং টিকান ওলাম (tikkun olam) নিয়ে, এটি একটি হিব্রু বুলি যার মানে “পৃথিবীর মেরামত করা (repairing the world)”। এই ডাকে তিনি সাড়া দিয়েছিলেন, দক্ষিনের কর্মীদের নাগরিক অধিকারের সমর্থনে একটি টিনের কৌটা হাতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। সেই থেকে তিনি একজন উত্সাহী স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবাধিকার কর্মী হিসেবে রয়ে গেছেন। আমি বড় হয়েছি সোভিয়েত ইউনিয়নে অত্যাচারিত ইহুদিদের জন্য করা আমার মায়ের অক্লান্ত পরিশ্রমের কাজ দেখে দেখে। তিনি এবং তার বন্ধু মার্জারি স্যানফোর্ড (Margery Sanford) রাজবন্দীদের মুক্তির জন্য আন্তরিক আপিল লিখে আহ্বান জানাতে চেয়েছেন। সন্ধ্যায় আমার বাবা তদের সাথে যোগ দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে সচেতন মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ, এভাবেই অনেক জীবন রক্ষা পেয়েছে।

(চলবে...)

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত