x

এইমাত্র

  •  ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৫৪ জন
  •  করোনা মোকাবিলায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস চীনের
  •  শবে বরাতে কবরস্থানে জনসমাগম না করার আহ্বান
  •  গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ প্রণোদনা দিতে সরকারের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ
  •  যুক্তরাষ্ট্রে একদিনেই ১২৫৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩০ হাজার

ছোটগল্প

চিঠি

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৫

ছবি কৃতজ্ঞতা : তাছলিমা আক্তার লিমা

১৭ তারিখ হাফিজ বাসা থেকে বেরিয়ে ক্যম্পাসের দিকে হাঁটা দিলো। বাসায় ভালো লাগছে না আর, মা কেন জানি ছাড়তে চাচ্ছে না তাকে। আসলে না বলে বেরিয়ে গিয়েছিলো কিনা যুদ্ধ করতে, এখনো মা রেশটা কাটিয়ে উঠতে পারে নি। 

থিসিসের কাজটা বাকি ছিলো যখন ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে গেলো। এতো আন্দোলন-মিছিল-সংগ্রাম করতে করতে কেমনে যে হাফিজ গবেষণায় সময় দিতো ভাবতে তার নিজেরই অবাক লাগে! যাই হোক! এখন স্বাধীন দেশে আরামসে গবেষণা শেষ করতে পারবে।

ক্যাম্পাসে চারিদিকে জয়ধ্বনি, খুশির বন্যা; আরেকদিক একটা অবিশ্বাস, গুমোট পরিবেশ অনেক শিক্ষক-ছাত্র-কর্মচারীদের প্রাণ চলে গিয়েছে, ক্যাম্পাসটা এতো উচ্ছাসের মধ্যেও ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে নিজের ডিপার্টমেন্টের দিকে এগুলো হাফিজ। প্রফেসরের রুমটা ভাঙ্গাচুরা পড়ে রয়েছে, প্রফেসর কোথায় কেউ জানেনা। 

ল্যাবের সামনে গিয়ে দেখলো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। গবেষণার কথা সে ভুলে গেলো, একটা বিষন্নতা ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করছে। 

'হাফিজ ভাই!' পিওন মনসুরের গলায় তার ঘোর কাটলো।

'যাক ভাই! বাইচ্চা আইছেন তাইলে! স্যারের তো কোন খোঁজ নাই। তয় যুদ্ধের মধ্যে স্যার একদিন আমার হাতে এই চিঠিটা দিয়ে কইছিলো, যদি আপনের সাথে কখনো দেখা হয় তাইলে আপনেরে দিতে।' হাফিজের সাথে আলিঙ্গন করে মনসুর বিদায় নিলো। হাফিজের হাতে সাদা একটা খাম।

'হাফিজ, জানি তুমি যুদ্ধে গিয়েছো। আমার দোয়া রইলো তোমার সাথে, আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি নিজের অবস্থান থেকে, একটা স্বাধীন দেশের জন্যে, জানি না কতটুকু পারবো। আমার এ পর্যন্ত ক্যারিয়ারে পাওয়া সবচেয়ে ব্রাইট স্টুডেন্ট তুমি। তোমার সাথে কথা না বলেই আমি বোস্টনে আমার বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, বোস্টন ইউনি তে তোমার একটা রিসার্চার পজিশানের জন্যে কথা বলেছিলাম। দেশের এই ক্রান্তিকালের মধ্যে আমার হাতে তোমার একটা কনফার্মেশন লেটার এসেছে। তোমাকে নিজের হাতে দিতে পারবো না মনে হয়। তবে মনসুরের কাছে যে ভাবেই হোক চিঠির সাথে এই লেটারটা পাঠিয়ে দিচ্ছি।

যদি ৭২ এর মধ্যে দেশ স্বাধীন হয়, তাহলে কিছু ফর্মালিটি পূরণ করে তুমি দেরি না করে বোস্টনে চলে যেও। গবেষণা শেষ করবে। অনেক বড় হবে। দেশে ফিরে আসতে ভুলবে না যেনো! দেশকে দেয়ার অনেক কিছু আছে তোমার। জানি না দেখা হবে কিনা, তবে সবসময় তোমার সাথে আছি।

ইতি,

ড. রায়'

হাফিজ নিশ্চুপে চিঠিটা পড়ে, কনফার্মেশান লেটারে চোখ বুলালো। তার আবেগ প্রকাশের কোন ভাষা নেই। বোস্টন যেতে এক দেড় মাস লেগে গেলো।

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ সাল, ল্যাবের মধ্যে ছাত্রের সাথে গবেষণায় মত্ত ড. হাফিজ। লেখাপড়া শেষে ফিরে এসে জয়েনিং এর পরে ড. রায়ের ল্যাব আর রুমটি পেয়েছে সে। ছুটির দিনেও ক্যাম্পাস আসতে সে ভুলে না। দেশকে যে অনেক কিছু দিতে হবে, নিশ্চুপে, নিভৃতে..... 

দেয়ালের সাদাকালো ছবি থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন ড. রায়......

লেখক: গবেষক, জিআইএস স্পেশালিস্ট, বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ​। 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত