x

এইমাত্র

  •  প্রানঘাতী করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর স্ত্রী সোফি গ্রেগোইরি
  •  বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ৩০ হাজার ছাড়াল, আক্রান্ত সাড়ে ৬ লাখের বেশি মানুষ
  •  ভারতে নতুন করে আরও ১৯৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯ শতাধিক
  •  স্টে অ্যাট হোম অর্ডারের অধীনে রয়েছেন অন্তত ২১ লাখ আমেরিকান

সোনালী আঁশে স্বর্ণালী ভাগ্য আফসানা সোমার

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:১০

জাগরণীয়া ডেস্ক

পাটকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তা। তাদেরই একজন আফসানা আসিফ সোমা। তিনি পাট নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন এবং মানুষের কাছে পাটকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন। এর স্বীকৃতিও হিসেবে পেয়েছেন আউটস্ট্যান্ডিং বিজনেস উইমেন অ্যাওয়ার্ড।

এই নারী উদ্যোক্তা জানালেন, তার তৈরি বিভিন্ন পাটজাত পণ্য দেশের নানা শ্রেণি-পেশার কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এমনকি বিদেশেও রফতানি করছেন পাটের তৈরি নানা পণ্য।

সম্প্রতি ‘সোনালী আঁশে’র তৈরি নানা পণ্য নিয়ে তার উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শোনালেন সোমা। বললেন, কিভাবে কানের দুল বন্ধক দিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। তিনি বলেন, মানুষ যে তার স্বপ্নের সমান বড়- তা আমি টের পেয়েছি নিজেকে দিয়ে। স্বপ্নটা দেখে আমি চেয়েছিলাম বাস্তবায়ন বা বিকশিত করতে। যেন তা হারিয়ে না যায়, সেজন্য স্বপ্ন পূরণে লেগে ছিলাম। ফলে, সফলতা এসেছে সৃষ্টিকর্তার মহিমায়।

সোমার নিজের সৃষ্টিশীলতা আর মেধা এই দুই পুঁজি নিয়েই শুরু করেন পথচলা। জানালেন, তার প্রতিষ্ঠান ‘এক্সি’ এখন দেশের একটি নাম করা কোম্পানি। তারা বিভিন্ন পাটজাত পণ্য তৈরি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করছে।

ব্যবসার বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে পাটপণ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করছি এই বাজারটা ধরতে। শুধু আমরা-ই নয়। দেশের অনেক পাটজাত পণ্য তৈরি করা কোম্পানিই তা ধরতে চেষ্টা করছে।

‘এর ফলেই আমরা এখন প্রতিবছর দেড় মিলিয়ন ডলার ব্যবসা করতে পারছি। এটা আরও বাড়াতে চাই,’ যোগ করেন এই উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, সময় পাল্টেছে। তাই বহুমুখী পাটপণ্যের গুণগতমান, দেশ ও দেশের বাইরে এর ব্র্যান্ডিং ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে। দেশের আরো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে এগিয়ে এলে এ শিল্প খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে।
‘আমি চাই তরুণেরা এই সেক্টরে আসুক। তারা আমার এফোর্ডটাকে যেন তাদের স্মার্টনেসের সঙ্গে ক্যারি করতে পারে। তবেই দেশের এই শিল্পটা আরো এগিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, নারীদের কাছে সংসারে প্রত্যাশাটা একটু বেশি থাকে। তবে, আমি চেষ্টা করি দুটোই সমানতালে সামলাতে।’

উদ্যোক্তা হিসেবে শুরুর দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সোমা বলেন, শৈশব থেকেই মায়ের সঙ্গে শাড়ি ডিজাইন করতাম। হাতেখড়ি তখন থেকেই। তখনই মনের ভিতর একটা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল, নিজে কিছু একটা করবো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন আফসানা সোমা। পড়াশোনা শেষ করে বিভিন্ন স্কুল-কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তবে সব শেষে মনোযোগ দিয়েছেন ব্যবসাতেই। বললেন, শুরুটা এত সহজ ছিল না। এখন অনেক বেশি ছেলেমেয়ে ডিজাইনিংয়ের দিকে আসছে। আর আমাদের দেশ অনেক রিসোর্সফুল। পুরো পৃথিবীতে এই রিসোর্স কাজে লাগিয়ে কত রকম কত কিছু করা যায় তা কিন্তু আমাদের দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সবাই জানে না। আমি লাভ-লোকসান বুঝি না। আমি ফ্যাশন থেকেই এ কাজে এসেছি। এটা আমার মনের ক্ষুধা। মাই অর্গানাইজেশন ইজ লাইক মাই চাইল্ড।

সময়টা ২০১০ সাল, আফসানা পুরোপুরি মন দিলেন পাটপণ্য নিয়ে কাজে। তবে, ডিজাইনিংয়ের কাজে আছেন ২৫ বছর ধরে। তরুণ বয়সেই নিজের কানের দুল বিক্রি করে শুরু করেন প্রথম ওয়ার্কশপ।

আফসানা সোমা বলেন, ‘আমি যখন ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স শুরু করছি তখন আমার ক্যারিয়ার নিয়ে বাসার সবাই ভাবতে শুরু করে। আমি সবাইকে জানাই যে, আমি ব্যবসা করবো। তখন ব্যবসার জন্য টাকা জোগাড় করতে গিয়ে কানের দুল বিক্রি করে দিই। এই দুল রাখা ছিল আমার বিয়ের জন্য। এই দুল আমি পুরান ঢাকায় গিয়ে বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে এলাম। আমাকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছিল। আমার বাসা ছিল মোহাম্মদপুর, জেনেভা ক্যাম্পের পাশে। ‘তখন কাপড় নিয়ে এসে বিহারি ক্যাম্পের বিভিন্নজনের কাছে দিয়ে কাজ করাতাম। তারপর আমি চট্টগ্রামে অনেক ছেলেকে সেই কাজের জন্য তৈরি করেছি।’

এক সময় শিক্ষকতা করেছেন এই নারী উদ্যোক্তা। পড়িয়েছেন চট্টগ্রামের সানসাইন গ্রামার স্কুলে। এরই মাঝে চট্টগ্রামে একটা ওয়ার্কশপ চালু করেন যেখানে মেয়েদের নানারকম জামা ও শাড়ি ডিজাইন করা হতো।

তার ছাত্ররাও তার ডিজাইন করা কাপড় খুব পছন্দ করতো। এভাবেই একসময় ব্যাপক সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ডিজাইনার হিসেবে। সে সময় পরিবারের সঙ্গে আবার তাকে ঢাকায় চলে আসতে হয়। যোগ দিলেন ঢাকার স্কলাস্টিকায়। কিন্তু চট্টগ্রামকে যেন কিছুই ভুলতে পারছিলেন না তিনি।

তাই, প্রতি সপ্তাহে চলে যেতেন চট্টগ্রামে। ফ্যাশন ডিজাইনার ও উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই সোনালী আঁশ নিয়ে কাজ শুরু করেন সোমা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একবার একভাই বললেন, পাট নিয়ে কিছু করা যায় কিনা দেখো। আমারও ভালো লাগলো বিষয়টি। ‘আর তখনই শুরু করি পাট নিয়ে পড়াশোনা। মার্কেটের প্রোডাক্টগুলো দেখলাম, কিন্তু কেমন জানি কমপ্লিট না। কী যেন একটা মিসিং। এই জায়গাটাতে এসে আমি কাজ শুরু করলাম। তখন আমি দুটি ছেলে নিয়ে ফ্যাক্টরি শুরু করি। ধানমন্ডিতে একটি প্রদর্শনী করি। একটা সময় পাটের জুতাও বানাতে শুরু করলাম।’

তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য দেশের বাইরে কানাডা, জাপান, ফ্রান্স, ইতালিতে ব্যাপক প্রশংসিত ও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ব্যক্তিজীবনে এই নারী উদ্যোক্তা তিন সন্তানের জননী। তার স্বামী বাংলাদেশের প্রখ্যাত গীতিকার আসিফ ইকবাল।

নতুনদের উদ্দেশ্যে আফসানা সোমা বলেন, আমাদের রয়েছে বিপুল যুবশক্তি। তারা যদি স্বপ্নটা দেখে বেঁচে থাকে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে তবে, নিজেই এসে ধরা দেবে সাফল্য।

সূত্রঃবাসস

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত