x

এইমাত্র

  •  শ্বাসকষ্টে মারা গেলেন ভিকারুননিসার শিক্ষিকা তাজিম রহমান
  •  গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় নতুন সংক্রমিত ২৬৯৫ জন, মৃত ৩৭ জন
  •  বিশ্বে করোনায় মোট মারা গেছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪২ জন
  •  বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ ৩১ লাখ ৯৭১ জন

সবাইকে বাঁচালেন কিন্তু নিজেকে বাঁচাতে পারলেন না স্বাতী

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:৫৬

জাগরণীয়া ডেস্ক

আগুন থেকে বাঁচাতে বিল্ডিং এর প্রায় প্রতিটি দরজায় নক দিয়ে ফ্ল্যাটবাসীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার রাস্তা দেখান স্বাতী, কিন্তু নিজেকেই আর বাঁচাতে পারেননি।

গত ৭ অক্টোবর (রবিবার) দিবাগত রাত ২ টায় ভারতের হরিয়ানার গুরুগ্রামের টিউলিপ রেসিডেন্সি টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ১১ তলা ঐ টাওয়ারে ফ্ল্যাটের সংখ্যা ৫০০। তারই ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন ইন্টেরিওর ডিজাইনার স্বাতী গর্গ। রাতে আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে নিজের স্বামী, শ্বাশুড়ী আর চার বছরের কন্যাকে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে দ্রুত বের হন স্বাতী।

এ প্রসঙ্গে স্বাতীর স্বামী জানান, সিড়ির সামনের প্যাসেজের অবস্থা ছিল আরও ভয়ানক। আরও বেশি ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছিল জায়গাটা। বাঁচতে হলে ছাদের দিকে যাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। মেয়ে আর মাকে নিয়ে আমি উপরের তলার দিকে ছুটতে থাকি। সেসময় স্বাতী টাওয়ারের প্রতিটি ফ্ল্যাটে নক করে সবাইকে ঘুম থেকে তুলে নিরাপদে সরে যেতে বলে এবং সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকে।

ললিতা সুনি নামে স্বাতীর এক প্রতিবেশী জানান, স্বাতী আমাদের দরজায় নক দেয় এবং জানায় টাওয়ারে আগুন লেগেছে। বাঁচতে হলে ছাদের দিকে দৌড়াতে হবে।

স্বাতীর পাশের এক প্রতিবেশী ছেলে এখনো স্বাতীর মৃত্যুর খবরটি বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি বলেন, কাজ শেষে অঘোরে ঘুমাচ্ছিলাম। স্বাতী আমাকে জাগিয়ে তোলে এবং আমার ঘুম ভেঙেছে এটা শিওর করে সে আমার ফ্ল্যাট ত্যাগ করে। অথচ আমি তাকে বাঁচাতে পারলাম না।

এ প্রসঙ্গে মোনা সাভানি জানান, আগুন লেগেছে বুঝতে পেরে স্বাতীর পরিবারের সাথে আমরাও উপরের দিকে উঠতে থাকি। কিন্তু সবাইকে ডাকতে গিয়ে স্বাতী অনেক পিছিয়ে পড়ে। স্বাতীর স্বামীসহ আমাদের পরিবার ৮ তলার একটি ফ্ল্যাটের বারান্দায় আশ্রয় নিই। 

কিন্তু পিছিয়ে পড়া স্বাতী ছাদের দিকেই দৌড়িয়েছিলেন। ছাদ পর্যন্ত পৌঁছালেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি নিজেকে। কারণ ছাদের দরজা বন্ধ ছিল। ধোঁয়ার মধ্যে দরজা খুলতে পারেননি তিনি। অক্সিজেনের অভাবে একটু একটু করে অবশ হয়ে পড়ে তার শরীরটা। তিনি যে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় ওই জায়গার দেওয়াল এবং দরজা দেখেই। দেওয়ালে এবং দরজায় হাতের ছাপ রয়েছে স্পষ্ট।

ভোর ৩ টা ১০ মিনিট নাগাদ দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিন্তু যতক্ষণে দমকল কর্মীরা ছাদের দরজার কাছে পৌঁছান, ততক্ষণে মারা গিয়েছেন স্বাতী।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই আবাসনের ৬ তলার সিঁড়ির পাশেই মিটারবক্স ছিল। সেই মিটারবক্সেই কোনওভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগে। বাইরে বেরোনোর একটি মাত্র রাস্তা। কিন্তু সিড়ির মুখেই আগুন লাগায় কেউই সেখান দিয়ে বেরতে পারেননি।

এদিকে, ঘটনার জন্য টাওয়ার কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন বাসিন্দারা। তারা বলেন, মানুষ ফ্ল্যাটে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকে সিকিউরিটির জন্য। কিন্তু এখানে সে ব্যবস্থা ছিল না। আগুন লাগলেও বাজেনি কোন ফায়ার এলার্ম। ছিল না ইমার্জেন্সি এক্সিটের ব্যবস্থা।

এদিকে, আগুন প্রতিরোধের যথেষ্ট ব্যবস্থা না রাখার অভিযোগে টিউলিপ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

এত জনের প্রাণ বাঁচালেন যিনি, সেই ৩২ বছর বয়সী স্বাতীর প্রাণটাই যে এভাবে বেঘোরে চলে যাবে, তা বিশ্বাসই করতে পারছেন না তার স্বামী। বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।

 

সূত্র: আনন্দবাজার​

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত