মিতু হত্যা: ১জনের পরিকল্পনায় ৯ ভাড়াটে খুনি জড়িত!

প্রকাশ | ২৪ জুন ২০১৬, ১৪:৪৫

অনলাইন ডেস্ক

চট্টগ্রামে পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পেরিয়ে গেছে ১৯ দিন। জানা যায়নি কি ছিল তার রহস্য। হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত অন্তত ৬ জন পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানালেও তাদের ব্যাপারে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তদন্ত কর্মকর্তারা। 

গত মাসেই কারাবন্দি জেএমবি সদস্য ফুয়াদ ওরফে মো. বুলবুলের লেখা একটি চিরকুট তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে আসে। ঐ চিরকুটে দেখা যায় বুলবুলদের উপর কথিত ‘নির্যাতন’ এবং নিজেকে ‘আইএস’ দাবি করা জেএমবি নেতা জাবেদকে খুনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের হত্যার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাবুল আক্তারকে না পেয়ে প্রতিশোধ নিতে তার স্ত্রীকে খুন করা হয়েছে কিনা এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এ জন্য ফুয়াদকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পিবিআই। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, চিঠি লেখার কথা ফুয়াদ স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে।

এই হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির ব্যাপারে চট্টগ্রামের পুলিশ কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও শীঘ্রই এই হত্যারহস্য উন্মোচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
 
পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে চট্টগ্রামের একাধিক সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাঁরা কেউ এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পনাকারী শুধু একজন মাত্র ব্যক্তি। আর ৯জন ভাড়াটে খুনি জড়িত থাকলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় ৪জন। এরই মধ্যে মোটর সাইকেলের সেই ৩ আরোহীসহ ৬ জন পুলিশী হেফাজতে আছে। সিসিটিভি ফুটেজে মোটর সাইকেলে চড়ে যে ৩ জনকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে তাদের পাশাপাশি প্রবর্তক মোড়ে পরিস্থিতি নজরদারিতে আরো ১জন ছিল এবং ৫ জন আশপাশে অবস্থান নিয়ে সহায়তা করেছে। শুধু তাই নয় বাবুল আক্তারের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত এক সোর্স হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহ করেছিল বলে জানা যায়। তবে তিনি জানতেন না কাকে হত্যায় এ অস্ত্র ব্যবহৃত হবে।

সূত্রের মাধ্যমে ও তদন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে জানা গেছে, মূল পরিকল্পনা হয়েছিল চট্টগ্রামের উত্তরে কোন এক এলাকায়। সুপরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে খুনিরা ৭ম দফা চেষ্টা চালানোর পর হত্যায় সফল হতে পারে। হত্যাকাণ্ডে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। ১মটি থেকে গুলি বের না হওয়ায় অন্যটি থেকে গুলি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

মিতু হত্যার রহস্য উদঘাটন এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতোমধ্যে হত্যার কারণ, পরিকল্পনার স্থান, খুনিদের আগমন ও শেষ গন্তব্যস্থলসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যও পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে এসেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাগণ একের পর এক বৈঠক করে কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শীঘ্রই এ ব্যাপারে ভালো খবর আসতে পারে বলে ধৈর্য্য ধরতে বলেন চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।