আফসানা হত্যাকাণ্ড

সন্দেহভাজন ছাত্রলীগ নেতার সমঝোতা প্রস্তাব ও হুমকি

প্রকাশ | ১৭ আগস্ট ২০১৬, ১৬:২১ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৬, ১৬:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

মিরপুরে সাইক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় কর্মী আফসানা ফেরদৌস (২৪) হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনও হত্যারহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসায় পুলিশি কার্যক্রমে অগ্রগতি নেই বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ হাসপাতাল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করেছে। তাদের ধারণা, এ ফুটেজের সূত্র ধরে অচিরেই সেই দুই যুবককে শনাক্ত করা যাবে। এদিকে একটি অপরিচিত মোবাইল থেকে আফসানার স্বজনদের কাছে কখনও সমঝোতার প্রস্তাব, কখনও ‘বাড়াবাড়ি না করতে’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আফসানার স্বজনরা জানান, তাদের কাছে নানারকম ফোন আসছে পরিস্থিতি সমঝোতা করে নেওয়ার জন্য। তাদের অভিযোগ, এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনের চাচাতো ভাইসহ আরও অনেকেই ফোন করে সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে এবং সমঝোতা না করে বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দিচ্ছে। আফসানার মা বলেন, রবিনের মাও এরই মধ্যে ফোন করে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের ঢাকায় আসার জন্যও বলেছেন। এদিকে রবিনের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তার সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল সুত্র জানায়, গত শনিবার বিকেলে দুইজন যুবক সিএনজিতে করে আফসানাকে নিয়ে হাসপাতালের আসে। তবে জরুরি বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য স্ট্রেচার নিয়ে আসতে বলে তারা সিএনজির ভাড়া মেটানোর কথা বলে পালিয়ে যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক কর্মচারী বলেন, কেউ রোগী রেখে পালাবে এমন মনে হয়নি, আর জরুরি রোগী দেখে আমরা ভেতরে এনে তাদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। কিন্তু ভেতরে আর কেউ আসেনি।

কর্তব্যরত চিকিৎসক বলছেন, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

আফসানার মামা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তৌফিক ইলাহী বলেন, আফসানার মায়ের নাম্বারের কল করে একজন জানায় যে আফসানা হাসপাতালে আছে তাকে নিয়ে যান। এই ফন পাবার পরেই আফসানার মা আমাকে বিষয়টা জানালে রাত দুটোর দিকে আমি এবং আফসানার মামা হাসানুজ্জামান মিন্টু কাফরুল থানায় যাই। সেখানে সেসময় লাশের বিষয়ে বলার মতো কেউ ছিল না। আমরা ফেসবুক থেকে আফসানার ছবি তাদের দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি। এসময় থানায় একজন জানান, লাশ দেখেছেন এমন একজন আছেন। তাকে ঘুম থেকে তুলে ছবিটি দেখানো হলে তিনি নিশ্চিত করেন থানায় আসা লাশটি আফসানার এবং আমাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে যেতে বলেন। পরে আমরা সেখানে গিয়ে লাশ শনাক্ত করি।
 
আফসানার মামা মিন্টু বলেন, আমার ভাগ্নির লাশে গলায় একটা দাগ ছাড়া আর কোনও দাগ দেখিনি। দেখে মনে হয় রশি জাতীয় কিছু দিয়ে তার শ্বাসরোধ করা হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই হত্যা মামলা করবো। পুলিশ সেরকমই পরামর্শ দিয়েছেন। আফসানার মা বলেন, আমার ভাই ও ভাতিজা আফসানার লাশ ভালমতো দেখেছে। মেয়ের কোথাও কোনও ক্ষত ছিল না। তাদের মুখ থেকে তিনি শুনেছেন, গলার দাগটা রশি দিয়ে শ্বাসরোধের মতো দেখায়।

আফসানার মা সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, শনিবার রাত ৯টার দিকে সৌরভ নামে পরিচয় দিয়ে একজন ফোন (০১৬২২৪০৬৭১৩) করে জানান, আফসানা অসুস্থ তাকে নিয়ে যান। কী হয়েছে জানতে চাইলে বলে, মাত্র ৬ মাস আগে আপনার স্বামী মারা গেছে, কীভাবে বলি কথাটা। আপনার পাশে কে আছে তাকে দিন। পরে আমার ছেলেকে বলে আফসানা হাসপাতালে, তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর আরও তিনবার কল করে তারা একবার ঢাকা মেডিক্যাল, একবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল, একবার কাফরুল থানা বলে শেষে রাত দুইটার পর আল হেলাল হাসপাতালের কথা বলে। যারা ফোন করছিল তারা ফোন করেই অফ করে দিচ্ছিল বলে আমাদের দিক থেকে তাদের কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কাফরুল থানার ওসি সিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, আমরা তদন্তাধীন বিষয়ে কিছুই জানাতে পারব না। তবে আল হেলাল হাসপাতালের সামনের সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে আছে। আমরা সেগুলো দেখছি। তদন্তে উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতি হলে অবশ্যই জানানো হবে।