দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যা

প্রকাশ | ২৫ জুন ২০১৮, ১১:৪৪

অনলাইন ডেস্ক

দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার পর লাশ গুম করে দেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাসুদ দেওয়ান নামে এক রিকশা চালক। ২৪ জুন (রবিবার) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দীন এই তথ্য জানান।

এই ঘটনায় মাসুদ দেওয়ান (৩২) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর চাচাত ভাই সোহেলকে (১৯) ২৩ জুন (শনিবার) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মাসুদের দ্বিতীয় স্ত্রী শোভা আক্তার এখনো পলাতক।

মাসুদের পরিকল্পনায় শোভা ও তার চাচাত ভাই সোহেল মিলে মা ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তায় ও ড্রামে ভরে স্থানে ফেলে দেয় বলে পুলিশের ভাষ্য।

পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন গোদনাইল ভাঙারপুল ডিএনডি খালের পাশে ড্রামের মধ্যে মাসুদের স্ত্রী আঞ্জুবী আক্তার (২৮), ১৬ জুন আঁটি এলাকার মাছের খামার থেকে মেয়ে মাহি (১৫ মাস) এবং ১৮ জুন একই খামার থেকে আরেক মেয়ে মাঈদা আক্তারের (৭) লাশ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধারের পর তদন্তে তাদের পরিচয় বেরিয়ে আসে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ছয় বছর আগে সিদ্ধিরগঞ্জের আঁটি হাউজিং এলাকার মাসুদ দেওয়ানের সঙ্গে আঞ্জুবী আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের মেয়ে মাইদা ও মাহি। দুই বছর আগে শোভাকে বিয়ে করে মাসুদ। এ নিয়ে আঞ্জুবির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হতো। দাম্পত্য কলহের জের ধরে মাসুদ, শোভা ও সোহেল মিলে আঞ্জবী ও তার দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ৯ জুন শোভা তার নতুন বাসা দেখার জন্য আঞ্জুবিকে দাওয়াত দিলে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে ওই বাসায় যায় মাসুদ। সেখানে প্রথমে আঞ্জুবীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে, পরে দুই মেয়েকে হত্যা করে শোভা ও সোহেল। হত্যার পর মাইদাকে হাত-পা বেঁধে লাল রঙের শপিং ব্যাগে, মাহিকে সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে এবং আঞ্জুবীকে ড্রামে ভরে রাত ৮টার দিকে মাছের খামারে এবং ডিএনডি খালের পাশে ফেলে আসে শোভা ও সোহেল।

তিনি আরো বলেন, লাশ উদ্ধারের পর তদন্তে ঘটনা বেরিয়ে এলে শনিবার মাসুদ ও সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আর রবিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমামের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল।