স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা

প্রকাশ | ২৮ জুলাই ২০১৬, ১৫:০৪ | আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০১৬, ২১:২০

অনলাইন ডেস্ক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় হতদরিদ্র পরিবারের এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। পুলিশের কাছে ওই ছাত্রী ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করলেও পুলিশ প্রথমে তাকে সাহায্য করেনি। তবে মামলা করলে থানায় আসার পরামর্শ দিয়েছেন।

ধর্ষণকারীরা হলেন- বাগধা ইউনিয়নের পশ্চিম বাগধা গ্রামের নারায়ন বল্লভের ছেলে রনজিৎ বল্লভ বুলেট (২০) ও তার বন্ধু ইউনুস সরদারের ছেলে মাসুদ সরদার (২১) ও স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল হকের ছেলে সোহাগ (২০)।

ওই ছাত্রীর ভাই ও মামা জানান, সোমবার (২৫ জুলাই) সকালে বাগধা গ্রামের রনজিৎ, মাসুদ ও সোহাগ দরিদ্র কাঠমিস্ত্রীর মেয়ে ওই স্কুল ছাত্রীকে একটি নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ঘটনা ওই বাড়ির সানজিদা নামে একমেয়ে দেখে ফেলায় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। ধর্ষক প্রভাবশালী পরিবারে সন্তান হওয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছিল। পরে ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আ.রহিম সরদার ও চৌকিদার আব্দুল হক ধর্ষিতার বাড়ি গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে কাউকে কিছু জানাতে নিষেধ করে তারাই বিচার করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে পুলিশ সোমবার রাতে খবর জেনে বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে এসআই এনামুল হক অভিযুক্তর বাবা রহিম চৌকিদারকে নিয়ে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

এসআই এনামুল হক ধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করে ধর্ষিতার বরাত দিয়ে বলেন, ধর্ষিতা বলেছে রনজিৎ তাকে ধর্ষণ করেছে। এসময় মাসুদ ও অন্য একজন তাতে সহযোগিতা করেছে। 

এদিকে বুধবার (২৭ জুলাই) ‘আগৈলঝাড়ায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের নাটকীয়তা’র সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম আগৈলঝাড়া থানার ওসিকে ভিকটিম উদ্ধার করে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে পুলিশের এসআই এনামুল হক ওই দিন দুপুরে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে তার মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযোগ দায়ের করলে ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম মামলা রেকর্ড করেন। মামলা নং-৯ (২৭-৭-১৬)। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক জানান, ভিকটিমকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) ভিকটিমের বয়স ও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ও জবানবন্দী গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠনো হবে। 

অপরদিকে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিক ও পুলিশ ম্যানেজ করার কথা বলে রনজিতকে ধর্ষণ মামলা থেকে নাম বাদ দিতে তার বাবার কাছ থেকে স্থানীয় কাইয়ুম ও খোকন মীর বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তারা ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকায় নাটকের সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।