গৃহকর্মীকে পুড়িয়ে নির্যাতনকারী আফরোজা গ্রেপ্তার

প্রকাশ | ১১ জুলাই ২০১৭, ১৮:০৩

অনলাইন ডেস্ক

ফেনী শহরের বিরিঞ্চিতে আগুনে পুড়িয়ে শিশু আমেনাকে (১০) নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত গৃহকর্তী আফরোজা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

১১ জুলাই (মঙ্গলবার) সকালে ফেনী সদরের ধলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উক্য সিং জানান, ঘটনা পর থেকেই আফরোজা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ জুলাই (মঙ্গলবার) সদরের ধলিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদ খান ছৌধুরী জানান, অভিযুক্ত গৃহকর্তী আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর আগে ৯ জুলাই (রবিবার) ফেনী শহরের বিরিঞ্চি এলাকায় আমেনা আক্তারকে অমানবিক নির্যাতন করে তার পুরো পিঠ আগুনে জ্বলসে দেয় গৃহকর্তী আফরোজা বেগম। এখন ফেনী সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশুটি। নির্যাতনের পর রবিবার রাতে শিশুটিকে ফেনী রেলস্টেশনে ফেলে যাওয়া হয়। আমেনা ফেনীর পরশুরাম থানার বিলোনীয়া সীমান্তের বাউরখুমা গ্রামের আবুল কাসেম মর্দপের মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৯ জুলাই (রবিবার) বিকেলে কিছু লোক পিঠ ঝলসানো অবস্থায় আমেনা আক্তারকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। তার পিঠ ও শরীরের নিম্নাংশ আগুনে পোড়া। দগদগে ঘা হয়ে গেছে। পিঠের চামড়া উঠে গেছে। থোকা থোকা মাংসে পচন শুরু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অসীম কুমার সাহা জানান, অবস্থা দেখে মনে হয়, শিশুটিকে কয়েক মাস আগে থেকে নির্যাতন ও আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। রোগ যন্ত্রণায় অসংলগ্ন হয়ে গেছে তার আচরণ। বিনা চিকিৎসায় এখন ইনফেকশন হয়ে গেছে, পচন ধরেছে।

আমেনার খালু বাবুল মিয়া বলেন, জন্ম থেকেই দুঃখী আমেনা। তাকে ফেলে তার মা বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে। এ অবস্থায় গরিব দাদি ফাতেমা বেগম শিশুটির ভরণপোষণ দিতে পারছিলেন না। অবশেষে দাদি তাকে কয়েক মাস আগে ফেনী শহরের গুদাম কোয়ার্টার এলাকার আফরোজা ম্যানশনের সামছু উদ্দিনের বাসায় গৃহকর্মীর কাজে দেন। সেখানে গৃহকর্ত্রী আফরোজা বেগমের নিষ্ঠুরতার শিকার হয় আমেনা।

ফেনী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহীদুল ইসলাম জানান, আমেনাকে কেবল নির্যাতন করেই ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড। রোগাক্রান্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে গেছে। শিশুটিকে রাস্তায় কাঁদতে দেখে কয়েকজন যুবক হাসপাতালে নিয়ে যান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ওসি আরও জানান, আমেনা তার বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেনি। কথাও অসংলগ্ন। এ অবস্থায় ফেসবুকে শিশুটির ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তার ঠিকানা উদ্ঘাটিত হলে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান। অভিযান চালানো হয় আফরোজা ম্যানশনে; কিন্তু অভিযুক্তরা এর আগেই বাসায় তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েছিলো।