যে নারী কখনো ‘বোল্ড’ হতে পারেননি

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৭, ২৩:২৩

এবারের নারী দিবসের শ্লোগান হচ্ছে ‘বি বোল্ড ফর চেঞ্জ’ অর্থাৎ পরিবর্তনের জন্য সাহসী হও। নারীর অগ্রগতি আর মুক্তির জন্য, নারীর সম অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করার পথে এর চেয়ে ভাল একটা শ্লোগান আমি কল্পনাই করতে পারি না। আমাকে যখনই কেউ প্রশ্ন করেন কীভাবে এতো প্রতিকূলতা কাটিয়ে এতো দূর এসেছি, আমি একটা কথাই বলি, ‘বুকে প্রচণ্ড সাহস ছিল, যা দিয়ে মনের ভয়কে জয় করেছি’।

কিন্তু আজকের এই লেখা যাকে নিয়ে তিনি বোল্ড ছিলেন না মোটেই, খুব সহজে যাকে দাবিয়ে রাখা যেত, একটা ধমক খেলেই যিনি ভয়ে কুঁকড়ে যেতেন। নিজের প্রতি কোনো অন্যায়ে যার কন্ঠস্বর নিজের শ্রবণ সীমার বাইরেই যেত না, দমিয়ে রাখা কান্নায় প্রায়শই যার ঠোঁট তিরতির করে কাঁপত। নিজের ভীষণ কোনো কষ্টে সবার অলক্ষ্যে শাড়ির আঁচল তুলে নীরবে চোখ মুছে সন্তানদের ভাল মন্দ দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন যে মানুষ- তিনি আমার মা খায়রুন নাহার চৌধুরী। শুধু মা লিখে থেমে যেতে পারলাম না, নামটাও লিখলাম কারণ তার নাম এই পৃথিবীর কোথাও কখনো গৌরবের সাথে উচ্চারিত হয়নি, কোনো জরুরী কাগজ পত্রে তার নাম কখনো গুরুত্বের সাথে লেখা হয়নি। জীবনে স্কুলের চৌকাঠে পা না রাখা এই নারী কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, আর অবশেষে আমাদের মা হয়ে বেঁচে থেকেই তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ২০১২ সালে। 

আমার প্রথম বই ‘নিষিদ্ধ দিনলিপি’ পড়ার পর পরিচিত এক পাঠক জানতে চেয়েছেন নিজের জীবনের প্রথম বইতে বাবাকে নিয়ে দু’টো লেখা আছে অথচ আমার মায়ের কোনো উল্লেখ নেই কেন। উত্তর দিতে গিয়ে এক মুহুর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। আসলেই তো, কিন্তু আমাদের এসব আন্দোলনের কথাবার্তার সাথে আমার মা ঠিক মানানসই নন, তাছাড়া মায়ের কথা লিখতে গেলে পাশাপাশি ভিলেন হিসেবে বাবাকে দাঁড় না করালেই চলে না। এজন্যই হয়তো মায়ের কথা আমি খুব একটা লিখি না। তবে আপাত দৃষ্টিতে দুর্বল এই নারীর ভেতরে যে অসামান্য ভালবাসার আর প্রাণ উজাড় করে দিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ছিল তার সাক্ষী শুধু আমরা ভাইবোনরাই নই, বরং পাড়া প্রতিবেশী এবং আত্মীয়স্বজনরাও। নিজের দুর্বল অবস্থানে থেকেও তিনি চারপাশের মানুষকে যা দিয়ে গেছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন করার ক্ষমতাই আমার নেই।  

আমাদের বাবা ছিলেন অসম্ভব দানশীল অথচ হিসেবি একজন মানুষ। আমাদেরকে তিনবেলা হিসেব করে সুষম খাদ্যের পাশাপাশি বাড়ির বাগানে ফলানো ফলমূল খেতে দেয়া হতো। হরলিক্স, ওভাল্টিন, চকোলেট, বিস্কিটের অর্থহীন বিলাসীতায় বিশ্বাস করতেন না তিনি। তদুপরি, কাপড় চোপড় খাতা কলম কোনোকিছুই তিনি সহজে কিনে দিতেন না আমাদেরকে। এসব দাবী জানানোর একমাত্র আশ্রয় ছিলেন মা যার নিজস্ব আয় বলতে কিছু ছিল না। এখন অবাক হয়ে ভাবি আমাদের গৃহবধূ মা, যিনি বাড়ির বাইরে খুব কমই পা রাখতেন, কীভাবে আমদের সব চাহিদা মেটাতে একের পর এক টাকা রোজগারের উপায় বের করতেন। 

মা’র উল বোনার হাত ছিল খুব দক্ষ, কিন্তু নতুন উল কেনার সামর্থ তার ছিল না। পরিচিত লোকজনকে দিয়ে সিলেট বন্দর বাজার থেকে নানান রঙের পুরোনো বিদেশি উলের সোয়েটার কিনিয়ে আনাতেন মা। অদ্ভুত কৌশলে সেসব সোয়েটার খুলে উল বের করে আনতেন, নিজের দুপায়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে সুন্দর মালার মত করে উলের গোছা বানাতেন, তারপর সেগুলোকে ধুয়ে রোদে শুকাতে দিতেন। এসব উল দিয়ে মোজা, হাত মোজা, মাফলার, শাল, নানান ফ্যাশনের জাম্পার, এমনকি কম্বল পর্যন্ত বানাতেন মা। এর কিছু রাখা হতো আমদের ব্যবহারের জন্য, কিছু বাবার দৃষ্টি এড়িয়ে গ্রামের লোকের কাছে নামে মাত্র মূল্যে বিক্রি করা হতো। এছাড়াও ময়দা দিয়ে এলেবেলে গজা ও কাটা নিমকি, নারিকেলের মুড়কি, আলুর মিষ্টি এসব বানিয়ে আমার দুলাভাইয়ের দোকানে সরবরাহ করতেন। সংসারের নানা ঝক্কি ঝামেলায় এসব কাজ দিনের বেলা করতে পারতেন না মা, তাছাড়া বাবার হাতে ধরা পড়ে যাবার ঝুঁকি এড়াতে রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে এসব কাজ করতেন বেচারি। 

মায়ের কোলের ওম ছাড়া আমার ঘুম হতো না, অপেক্ষা করে থাকতাম কখন মা বিছানায় আসবেন। সমস্ত বাড়ি যখন নিথর নিঝুম, আমি আর মা যে কামরাটায় ঘুমাতাম সেটাই শুধু তখনো মায়ের কঠোর পরিশ্রমে সরব- কুরানো, কাটা কুটা, নাড়া চাড়া। একটু পরপর চাপা গলায় ধমক দিতেন ‘তুমি গুমাইসো না এখনো? রাইক্ষস আইব, জলদি গুমাও’। রাক্ষসের ভয় হোক, বা সারাদিনের দুষ্টুমির ক্লান্তি, এক সময় কর্মরত মা’কে একা ফেলে আমিও ঘুমিয়ে পড়তাম। মা কখন ঘুমাতেন, কে জানে! 

গ্রামের লোকের ফি-বিহীন ডাক্তার ছিলেন আমার মা। হেন রোগ নেই যা তিনি সারাতে পারতেন না। হাত পা মচকা ও ভাঙা, পেটে মাথায় ব্যথা, ফোঁড়া, ধুলা ঢুকে ফুলে যাওয়া চোখ- সবকিছুর ওষুধ ছিল একটাই। নানান রকম দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে রোগীকে খেতে দিতেন মা। আবার কখনো তেলে ফুঁ দিয়ে নিজের হাত সযত্নে ব্যথার জায়গায় মালিশ করে দিতেন। সবচেয়ে হাস্যকর অথচ কাজের ছিল মা’র চোখে বালি পড়ার চিকিৎসা । হতে পারে রোগী আমেরিকা থাকেন, অথবা ইংল্যান্ড আর আমার মা বাংলাদেশে, তাতে কোনো সমস্যা নেই। শুধু আমার মা’কে নামটা পাঠিয়ে দিলেই হয়ে গেল। ব্যস, মা দুই হাতে তেল মাখিয়ে ধ্যানে বসে যেতেন, কী কী সব পড়ে পড়ে নিজের হাতে ফুঁ দিতেন, আবার দুই হাতের তালু ঘষতেন, আবার ফুঁ দিতেন। এক পর্যায়ে আমেরিকা বসবাসরত রোগীর চোখের বালি ভিসা ছাড়াই আমার মায়ের হাতে চলে আসত। মা আমাদের হাতে বালুর কণা দিয়ে বলতেন, ‘ধরে দেখো, আমাদের দেশের বালু কখনো এতো মোটা হয়?’ 

অনেকে হয়তো আঁতকে উঠছেন এই ভেবে যে আমি এধরনের চিকিৎসাকে সমর্থন জানাচ্ছি। মোটেই তা নয়। আমরা মা’কে নিয়ে হাসতাম, কিন্তু লোকে মা’কে বিশ্বাস করত এবং শুধুমাত্র বিশ্বাস যে কত অসুখ সারিয়ে তুলতে পারে, তা আমি ছোটবেলা মায়ের দ্বারা হতে দেখেছি। মা’র কোনো স্বার্থ ছিল না, গ্রামের গরীব লোকেরা যেমন মা’কে কিছু দিত না তেমনি তার প্রবাসী রোগীরাও না। আসলে মা নিজে গভীরভাবে এসবে বিশ্বাস করতেন। আমাদের বাবা এবং আমরা মা’কে নিয়ে ঠাট্টা করতাম, আবার নিজেদের একটা কিছু সমস্যা হলেই মা’র শরণাপন্ন হতাম। একবার আমার স্কুলের এক শিক্ষিকা বিভিন্ন এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের হাতে তার ছেলের চোখের অসুখ কমাতে ব্যর্থ হয়ে আমার মায়ের কাছে এসেছিলেন। দু’দিনেই তার ছেলে ভাল হবার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে গেলেন। এমন গুণী একজন মায়ের কথা তাকে কখনো বলিনি, অন্যের কাছে শুনে তাকে মা’র কাছে আসতে হয়েছে এজন্য আমার উপর ক্ষেপে গেলেন। 

কোনোদিন স্কুলে যাননি যে নারী, তার হাতেই হয়েছিল আমার শিক্ষার হাতে খড়ি। নিজের সমস্ত সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠে গল্প বলা এবং ধাঁধার মাধ্যমে অংক, বাংলা, যুক্তিপ্রয়োগ এবং নীতিবোধের যে ভিত্তি মা গড়ে দিয়েছিলেন তা ছাড়া বোধ করি আমি আজকের আমিটি হয়ে উঠতে পারতাম না। শিশু হিসেবে চারপাশের মানুষ আর তাদের আচরণ যখন আমাকে বিভ্রান্ত করে তুলত মা’কে তখন মনে হতো উত্তাল সমুদ্রে একটা ছোট্ট দ্বীপের মত অথবা খরতাপে পোড়া মরুভূমিতে একটুখানি মরুদ্যানের মত যেখানে শান্তি পাওয়া যায়, ক্ষমা পাওয়া যায়। 

বড় হবার পর মায়ের সাথে চিন্তাভাবনার, ধ্যান ধারণার, জীবন বোধের অনেক পার্থক্য হয়ে গেলেও তার কাছে গিয়ে বসলেই শান্তি লাগত। দেশে বিদেশে ছোটাছুটির কারণে মা’র সঙ্গ থেকে অনেক বঞ্চিত হয়েছি। একদিন ক্লাসে স্পিকিং এক্টিভিটির সময় এক ছাত্র প্রশ্ন করল, ‘হোয়েন ডিড ইউ লাস্ট স্পিক টু ইউর মাদার?’

তাইতো, শেষ কবে মায়ের সাথে কথা বলেছি? মনে করতে পারছিলাম না। ক্লাসসুদ্ধ ছাত্ররা আমার দিকে উত্তরের জন্য তাকিয়ে আছে, আমি প্রাণপনে কান্না আটকানোর চেষ্টা করছি। মৃত্যুর আগের কয়েকটি বছর মা ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন, বেশির ভাগ সময় কাউকে চিনতে পারতেন না। আমি দেশে গেলেও মা'র সাথে কথা হতো না খুব একটা। আমি তার কাছে বসতাম না, ভীষণ খারাপ লাগতো। মায়ের গায়ে আজীবন যে মিষ্টি জর্দার গন্ধ পেয়ে এসেছি তা হারিয়ে গিয়ে তাকে ঘিরে থাকা একটা অসুখ অসুখ গন্ধ আমাকে অস্থির করে তুলতো। শেষবার যখন মা'কে দেখি, হাড্ডিসার হাতটা ধরে বিছানায় তার পাশে বসেছিলাম। গালের চামড়ার ভাঁজে প্রায় হারিয়ে যাওয়া তার চোখ দু’টিতে ছিল বিভ্রান্ত দৃষ্টি। অনেকক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে মা জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'আপনি কি আমার বোন?'

আমার এমন অভিমান হয়েছিলো মা'র প্রতি, কেন আমাকে ভুলবেন মা? যতই অসুখ হোক, আমার ছেলেবেলার মাছ ধরার, কচুর লতি তুলে আনার, বনের ঝোঁপে ঝরে পড়া সুপারি কুড়ানোর সঙ্গী মা আমাকে ভুলবেন কেন? আমি ডুকরে কেঁদে উঠলাম, 'মা, আমি আপনার রোজী (আমার ডাক নাম)'। বেশ অনেকদিন পর দেখা হলেও সেবার মা আমাকে চিনেছিলেন, 'নামটা আগে বললে না কেন? তুমিতো আমার ছোট মেয়ে। আমি তোমাকে চিনি। মিরাজ, ইলা কই?' ভাগ্যিস এর পর আর মায়ের সাথে আমার দেখা হয়নি, তাই তার আমাকে চিনতে পারার স্মৃতিটুকু থেকে গেছে।

আজো চোখ বন্ধ করে যখন মা’র মুখ ভাবার চেষ্টা করি, তার শয্যাশায়ী অসুস্থ রূপ মনে আসে না, বরং তাকে দেখি শীতের ভোরের হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে লাল ঝুড়ি হাতে রাই সরিষার শাক তুলতে, ছোট চাচার বাড়ির পুকুর পাড়ের আমলকি গাছের ছায়ার বসে বড়শী বাইতে, আগাছার ভেতর থেকে খুঁটে খুঁটে বারোপাতা শাক তুলতে যা খেলে কোনো রোগ বালাই আমাদের কাছ ঘেঁষবে না, উল বুনতে বুনতে কোরানের আয়াত মুখস্ত পড়তে। অথবা দেখি হারিক্যানের আলোয় জ্বলজ্বলে এক মুখ যার দিকে তাকিয়ে আমরা বিহ্বল হয়ে শুনতাম পীর আউলিয়া, জ্বীন পরী আর রাজা বাদশা’র অবিশ্বাস্য সব কাহিনী। এই আমার মা। আমার ছেলেবেলার প্রথম বন্ধু, প্রথম শিক্ষক, আমার অপরাহ্ন অভিযানসমূহের অসম বয়সের সাথী।  


সারাজীবন অবৈজ্ঞানিক উপায়ে অন্যের রোগ সারিয়েছিলেন যে নারী, বৃদ্ধ বয়সে নানান রোগের বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সত্ত্বেও সময়ের নির্মম থাবা তাকে যেদিন কেড়ে নিল, সেদিন আমি মোটরওয়েতে ড্রাইভিং প্র্যাক্টিস করছিলাম। পাশের সিটে বসা আমার স্বামী অপু যখন খবরটা ফোনে রিসিভ করলেন, কিছু না শুনেই বুঝতে পারলাম মা আর নেই। হার্ড শোল্ডারে গাড়ি থামিয়ে সিট পরিবর্তন করলাম দু’জনে। একটা ট্রেনিং এ যাচ্ছিলাম তখন। প্রচন্ড পরিশ্রমী দু’জন মানুষের সন্তান আমি, ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’ শিখে বড় হয়েছি তাই অপুর পরামর্শ সত্ত্বেও ঘরে ফিরলাম না। সারাদিন ট্রেনিং করে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে প্রতিদিনের মত রান্নাবাড়া, ঘর সংসার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অপু বারবার মিনতি করছিল কাজ ফেলে একটু বসতে কিন্তু আমি নিজেকে থামাতে পারছিলাম না। একটার পর একটা কাজ করছিলাম পাগলের মত। ফোন আসছিল অনবরত, আমি ধরছিলাম না। অপু বলছিল, অন্তত ভাইবোনদের সাথে আমার কথা বলা উচিৎ। কিন্তু পৃথিবীতে কারো সাথেই কথা বলার প্রয়োজন ছিল না আমার তখন, অপুর সাথেও না। যার মা নেই, সে কেন কারো সাথে কথা বলবে?

রাতে সব কোলাহল মিলিয়ে গেলে জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথম নিজের শোকের মুখোমুখি হলাম আমি। হতভম্ব হয়ে গেলাম। সমস্ত পৃথিবী তেমনই আছে, গাছের পাতা নড়ছে, মেঘেরা হালকা বাতাসে ভেসে যাচ্ছে। সব ঠিক আছে, শুধু আমার মা নেই। আমার মা নেই। প্রবাস জীবন তার সাথে শেষ বিদায়ের সুযোগটুকুও আমায় দেয়নি। এই প্রথম আমার চোখে পানি এল, নিজের হাত পা শরীর কোথায় রাখব ভেবে পেলাম না। পাগলের মত ছুটাছুটি করতে লাগলাম নিজের ছোট্ট শোবার ঘরে। কার্পেটে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে লাগলাম। মা নেই মা নেই- এই হাহাকারের সাথে আজো অভ্যস্ত হতে পারিনি।

আমার মা এবং তার মত আরো যেসব নারী কখনো বোল্ড হতে পারেননি, শুধু দিয়ে গেছেন পরিবার আর সমাজকে কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাননি, নারীদিবসে তাদেরকে জানাই প্রাণ উজাড় করা ভালবাসা। তারা এতোটা সয়ে না গেলে আমাদের, অন্তত আমার, বোল্ড হতে পারার রাস্তাটা হয়তো তৈরি হতো না। 

লেখক: প্রবাসী শিক্ষক, নাট্যকর্মী ও অনুবাদক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত